পুরুষের ঘামের গন্ধ বদলে দিতে পারে নারীর হরমোন, ফাঁস হলো বিজ্ঞানের গোপন রহস্য

প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে এলে অকারণেই মন ভালো হয়ে যায়? অথবা ভিড়ের মাঝেও কি সঙ্গীর গায়ের গন্ধ আপনাকে আলাদা করে স্বস্তি দেয়? ভালোবাসা দিবসের আবহে আমরা যে ‘কেমিস্ট্রি’ নিয়ে এত কথা বলি, তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর বিজ্ঞান। গবেষকরা বলছেন, মানুষের শরীরের ঘ্রাণ বা ঘামের মধ্যে থাকে এমন কিছু রাসায়নিক সংকেত, যা অবচেতনেই আমাদের আকর্ষিত করে।

ঘামের ভেতরেই প্রেমের সংকেত!

বিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষের বগলের ঘামে অ্যান্ড্রোস্টেনেডিওন (Androstenedione) নামক একটি বিশেষ যৌগ থাকে। একে বলা হয় সম্ভাব্য ‘মানব ফেরোমন’ (Pheromone)।

  • হরমোনের প্রভাব: ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই যৌগের গন্ধে নারীদের শরীরের কর্টিসল (Cortisol) বা স্ট্রেস হরমোনের স্তরে পরিবর্তন ঘটে।

  • মুড বদল: এটি সরাসরি মানসিক সাড়া, মনোযোগ এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো মানুষের উপস্থিতিতে নারীদের মুড বা শারীরিক উত্তেজনায় সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসতে পারে।

মস্তিষ্কের অলফ্যাক্টরি কানেকশন

গন্ধ যখন নাক দিয়ে প্রবেশ করে, তখন আমাদের অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের মাধ্যমে তা সরাসরি মস্তিষ্কের আবেগ-নিয়ন্ত্রক অংশে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত এবং অবচেতনে ঘটে যে, আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না কেন কাউকে আমাদের ভালো লাগছে।

জেনেটিক বৈচিত্র্য ও আকর্ষণ

আকর্ষণ মানে কেবল সুন্দর চেহারা নয়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, মানুষ অবচেতনে এমন সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হয় যার জেনেটিক গঠন তার নিজের থেকে আলাদা। শরীরের স্বাভাবিক ঘ্রাণ সেই জৈবিক তথ্যের বাহক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, আপনি কার প্রেমে পড়বেন তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় আপনার নাসিকার ঘ্রাণশক্তির ওপর!

তবে মনে রাখবেন, এই ‘কেমিস্ট্রি’ কোনো জাদুবিদ্যা নয়। মানব আকর্ষণ হলো জৈবিক সংকেত, মানসিক সংযোগ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার এক জটিল সংমিশ্রণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy