পিরিয়ডের সময় তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা বা ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভোগেননি, এমন নারী খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারও ক্ষেত্রে হয়তো এই ব্যথা অল্প থাকে, তবে বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রেই তা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই পিরিয়ড ক্র্যাম্পকে ডিসমেনোরিয়া বলা হয়। সাধারণ ক্র্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি, গুরুতর ব্যথা অনেক সময় বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তবে সাধারণ পিরিয়ড ক্র্যাম্পের উপশমে কিছু সহজ ভেষজ প্রতিকার রয়েছে, যা এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক পিরিয়ডের সময় ক্র্যাম্প দূর করার কয়েকটি ঘরোয়া উপায়:
ক্যামোমাইল চা:
ফার্মাকোপাংচার গবেষণা অনুযায়ী, ক্যামোমাইল নামক ভেষজে গ্লাইসিন নামক একটি উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি জরায়ুকে শিথিল করতে এবং এর সংকোচন কমাতে সাহায্য করে। পিরিয়ড শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে নিয়মিত ক্যামোমাইল চা পান করলে পিরিয়ডের সময় ক্র্যাম্পের তীব্রতা কম হতে পারে।
দারুচিনি:
২০১৮ সালের কমপ্লিমেন্ট থার ক্লিন প্র্যাক্ট স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, যারা ১,০০০ মিলিগ্রাম দারুচিনি গ্রহণ করেছেন, তারা প্লেসবো (নিয়ন্ত্রণ) গ্রুপের তুলনায় ব্যথার তীব্রতা কম অনুভব করেছেন। তবে দারুচিনি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ আপনার জন্য নিরাপদ কিনা, তা জানতে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পিরিয়ডের প্রথম ৭২ ঘণ্টার জন্য প্রতিদিন একবার দারুচিনি ক্যাপসুল গ্রহণ করা সহায়ক হতে পারে।
মৌরি:
মৌরি রক্তে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন হলো সেই হরমোন, যা জরায়ুর সংকোচন এবং ব্যথার জন্য দায়ী। দিনে কয়েকবার মৌরি নির্যাসের ড্রপ বা ক্যাপসুল গ্রহণ করা পিরিয়ড ক্র্যাম্পের উপশমে উপকারী হতে পারে। তবে আপনার জন্য উপযুক্ত ডোজ সম্পর্কে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আদা:
পিরিয়ডের অস্বস্তির তীব্রতা এবং সময়কাল কমাতে আদার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনও সীমিত। তবে কিছু গবেষণা অনুযায়ী, আদা ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস (NSAIDs)-এর মতোই মাসিকের অস্বস্তির তীব্রতা কমাতে পারে। পিরিয়ডের সময় আদা চিবিয়ে খেতে পারেন, আদা চা পান করতে পারেন অথবা আপনার খাবারের তালিকায় শুকনো বা কাঁচা আদা যোগ করতে পারেন।
পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে এই ঘরোয়া উপায়গুলো অবলম্বন করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, হালকা গরম জলের সেঁক দেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও জরুরি। যদি ব্যথা খুব বেশি তীব্র হয় এবং ঘরোয়া উপায়ে কোনো সুফল না পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।