পিত্তথলিতে পাথর? এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হোন!

গলব্লাডারে স্টোন বা পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সমস্যা আজকাল অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন। এর প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে মেনোপজের পর হরমোন ক্ষরণে ঘাটতি, গর্ভনিরোধক বড়ি সেবনের অভ্যাস, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত জল পান না করা। যদিও এই রোগ নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, পুরুষরাও এর ঝুঁকিমুক্ত নন।
কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। তাই আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো:
লক্ষণসমূহ:
১. পেটের ডান দিকে তীব্র ব্যথা: ওপরের পেটের ডান দিকে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা ডান কাঁধের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ব্যথার সাথে বমিও হতে পারে।
২. কাঁপুনি দিয়ে জ্বর: অনেক সময় পিত্তথলিতে পাথর হলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৩. তৈলাক্ত খাবার গ্রহণে ব্যথা: তৈলাক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার বা মাংস খাওয়ার পরে যদি পেটে ব্যথা অনুভব করেন, তবে এটি পিত্তথলিতে পাথরের একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এর সাথে বমিও হতে পারে।
৪. মধ্য পেটে ব্যথা যা পিঠের দিকে যায়: কারো কারো ক্ষেত্রে মধ্য পেটে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পেছনের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
৫. জ্বরের সঙ্গে বমি ও টক্সিক ভাব: জ্বরের পাশাপাশি যদি বমি হয় এবং রোগী দুর্বল বা টক্সিক অনুভব করেন, তবে এটি পিত্তথলিতে জটিলতা সৃষ্টির লক্ষণ হতে পারে।
৬. জ্বরের সঙ্গে জন্ডিস: জ্বরের সাথে যদি জন্ডিসের লক্ষণ (ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া) দেখা দেয়, তবে এটি একটি গুরুতর লক্ষণ। এর অর্থ হতে পারে পাথর পিত্তনালিতে চলে গেছে এবং সংক্রমণের (কোলেনজাইটিস) সৃষ্টি করেছে।
৭. হেপাটাইটিসের ঝুঁকি: পিত্তথলিতে পাথর হলে অনেক সময় রোগীরা একইসঙ্গে হেপাটাইটিসেও আক্রান্ত হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।
উপরের এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটিও যদি আপনার মধ্যে দেখা যায়, তাহলে একেবারেই অবহেলা করবেন না এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। শুধুমাত্র গ্যাসের ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় এবং এতে রোগ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিরোধ:
পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
১. ধীরে ধীরে ওজন কমানো: অতিরিক্ত ওজন কমাতে হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে কমানো উচিত। দ্রুত ওজন কমালে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
২. আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ: খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি ও ফলমূল যোগ করুন।
৩. স্বাস্থ্যকর তেল গ্রহণ: উদ্ভিজ্জ তেল যেমন সূর্যমুখী তেল ও অলিভ অয়েল এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেল গ্রহণ করুন।
৪. প্রাণিজ চর্বি পরিহার: অতিরিক্ত প্রাণিজ চর্বি গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।
৫. পর্যাপ্ত জল পান: প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন।
৬. নিয়মিত ব্যায়াম: প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিতভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের দৈহিক ব্যায়াম করা উচিত।
সচেতনতাই পারে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে। তাই কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।