পরিবারই শিশুর প্রথম পাঠশালা, বড়দের এই ভুলগুলো একদম নয়!

পরিবার একটি শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্ম নেওয়ার পর থেকেই একটি শিশু তার বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আচার-আচরণ অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে। তারা যা করে, ছোটরাও ধীরে ধীরে সেই অভ্যাসগুলোই রপ্ত করতে শুরু করে। মা-বাবা ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য বয়স্ক সদস্যদের ব্যবহারও শিশুদের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলে।

অতএব, পরিবারের বড় সদস্যদের একটি বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। এমন কিছু কাজ বা আচরণ রয়েছে, যা কখনোই শিশুদের সামনে করা উচিত নয়। কারণ এই ধরনের কার্যকলাপ শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আসুন, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-

ভদ্রতা বজায় রাখুন:

শিশুরা যখন আশেপাশে থাকে, তখন স্বামী-স্ত্রীর অবশ্যই পারস্পরিক ভদ্রতা বজায় রাখা উচিত। তাদের সামনে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা তাদের মনে খারাপ ধারণা তৈরি করতে পারে। সবসময় বাড়িতে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মার্জিত পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

চিৎকার পরিহার করুন:

রাগ বা বিরক্তির মুহূর্তে আমরা অনেকেই উচ্চস্বরে কথা বলি বা চিৎকার করে ফেলি। এই ধরনের আচরণ শিশুদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। যদি শিশুদের সামনে এমন ঘটনা ঘটে, তবে তারা মনে করতে পারে যে এটাই স্বাভাবিক আচরণ।

কটু মন্তব্য নয়:

শিশুদের সামনে কখনোই অন্য কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়। কারও গায়ের রং, চেহারা, শারীরিক গঠন বা অন্য কোনো দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করা অনুচিত। এই ধরনের আচরণ করলে শিশুরাও অন্যদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতে এবং বাজে মন্তব্য করতে শিখবে।

ফোন ও টিভির ব্যবহার কমান:

শিশুরা যদি সবসময় তাদের বাবা-মাকে টেলিভিশন বা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত দেখে, তবে তারাও সেই একই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই শিশুদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত এবং তাদের সামনে টিভি ও ফোনের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা উচিত।

খারাপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন:

বাবা-মা যদি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য, প্রতিবেশী বা বন্ধুর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের উপর পড়বে। কারও সঙ্গে মতের অমিল হলেও অথবা কাউকে অপছন্দ করলেও শিশুদের সামনে সেই ব্যক্তির প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করা উচিত নয়। এমনটা করলে শিশুরাও ভবিষ্যতে অন্যদের প্রতি খারাপ ব্যবহার করতে শিখবে।

খাবার অপচয় নয়:

শিশুদের জীবনে খাবারের গুরুত্ব বোঝানো অত্যন্ত জরুরি। তাদের কাছে খাদ্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে হবে। তাই তাদের সামনে কখনোই খাবার নষ্ট করা উচিত নয়। তাদের শেখাতে হবে যে খাদ্য অপচয় করা একটি অত্যন্ত খারাপ অভ্যাস।

পরিশেষে বলা যায়, একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রতিটি শিশুর সঠিক পরিচর্যা এবং ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে ওঠা প্রয়োজন। পরিবারের বড় সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণই শিশুদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।