নীরব ঘাতক পরোক্ষ ধূমপান! অজান্তেই ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ

ধূমপানের অভ্যাস সমাজের এক গভীর সমস্যা। একজন ধূমপায়ী যখন ধোঁয়া ছাড়েন, তখন কেবল তিনিই নন, তার আশেপাশে থাকা মানুষগুলোও সেই বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হন। অজান্তেই সেই ধোঁয়া প্রবেশ করে পার্শ্ববর্তী মানুষের দেহে। আর এই ধোঁয়ায় শুধু তামাকই থাকে না, থাকে আরও প্রায় ৭০০০ রকমের বিষাক্ত পদার্থ, যা শরীরে ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই ধরনের পরোক্ষ ধূমপান প্রত্যক্ষ ধূমপানের থেকেও বেশি ক্ষতিকর। কারণ ধূমপায়ী সরাসরি ফিল্টারের মাধ্যমে ধোঁয়া গ্রহণ করলেও, পাশে থাকা ব্যক্তি অপরিশোধিত বিষাক্ত ধোঁয়ার সম্মুখীন হন।
আসুন, দেখে নেওয়া যাক পরোক্ষ ধূমপান আমাদের শরীরে কী কী ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে:
>> হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি: পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হলে হৃদরোগের আশঙ্কা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, স্ট্রোকের ঝুঁকিও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই বিষাক্ত ধোঁয়া রক্তনালী সরু করে ফেলে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রধান কারণ।
>> ফুসফুস ও অন্যান্য ক্যান্সারের আশঙ্কা: যারা নিজেরা ধূমপান করেন না, তাদের ক্ষেত্রেও পরোক্ষ ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও, সাইনাস, গলা এবং পেটের ক্যান্সারের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। এই ধোঁয়ায় থাকা কার্সিনোজেনিক উপাদান শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক।
>> শিশুদের জন্য মারাত্মক: শিশুদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপান আরও বেশি বিপজ্জনক। এর ফলে তাদের লিম্ফোমা, লিউকিমিয়া ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শিশুদের দুর্বল শরীর এই বিষাক্ত ধোঁয়া সহ্য করতে পারে না।
>> শ্বাসকষ্ট ও সংক্রমণের ঝুঁকি: পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সাইনুসাইটিস, হাঁপানি এবং বুকের সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। এই ধোঁয়া শ্বাসনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
>> অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য ভয়াবহ: অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপান ভ্রূণের আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়াও, এটি অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত এবং কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। মায়ের শরীরে প্রবেশ করা বিষাক্ত পদার্থ গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়।
পরোক্ষ ধূমপান একটি নীরব ঘাতক, যা অজান্তেই আমাদের শরীরে মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধতে সাহায্য করে। তাই ধূমপায়ীদের উচিত অন্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে জনসমক্ষে ধূমপান পরিহার করা। এবং অধূমপায়ীদের উচিত ধূমপানরত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা ও নিজেদের রক্ষা করা। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পরোক্ষ ধূমপান থেকে বাঁচা অপরিহার্য।