পুষ্টিগুণে ভরা একটি ফল কলা। ক্লান্ত শরীরকে সহজেই সতেজ করতে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সকাল, দুপুর কিংবা রাত যে কোনো সময় কলা খাবারের টেবিলে রাখা যায়। এছাড়াও সহজলভ্য হওয়ায় সবাই কলা খেতে পারে। তবে এতকিছুর পরও একটা কিন্তু রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম রোগ যাদের রয়েছে তাদের কলা খাওয়া উচিত নয়।
ডায়েটিশিয়ান রোজির মতে পিসিওএস এমন একটা রোগ, যা নারীদের শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটায়। যার ফলে তাদের ডিম্বাশয় বড় হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোট ছোট সিস্টও হয়। এই রোগের কারণ হলো ওবেসিটি বা ওজন বৃদ্ধি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, এক্সারসাইজ বা কায়িক শ্রমের অভাব ইত্যাদি। এসব থেকে মুক্তির একটি উপায় হলো খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা।
মিথ অ্যান্ড ফ্যাক্টস
কলা ওজন বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে পিসিএএসের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। এই তথ্য কিন্তু পুরোপুরি সত্য নয়। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম থাকে। এছাড়া ফাইবারের অন্যতম উৎস কলা। যার মধ্যে সলিউবল ও ইনসলিউবল ফাইবার থাকে। যা কিন্তু ওজন বাড়ায় না, বরং কমাতে সাহায্য করে।
কলাতে সুগার বা কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। এটাও মিথ। কলায় থাকে প্রাকৃতিক সুগার। এই প্রাকৃতিক সুগার সমৃদ্ধ কলা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কলার মধ্যে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেট, এতে উপস্থিত ফাইবার হজম করতে সাহায্য করে।
কাঁচকলা না পাকাকলা?
ফল হিসেবে পাকা কলা, সবজি হিসেবে কাঁচা কলা অনেকেই খান। কাঁচা কলায় ফাইবারের পাশাপাশি স্টার্চ থাকে, যা ইনস্যুলিন সেনসিভিটি বাড়ায় অর্থাৎ ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রবণতা কমে।
দিনে কতটা কলা ভালো?
কলা ভালো, কিন্তু মেপে বুঝে খেতে হবে। পরিমানে কম। রোজ বেশি কলা নয়। যেহেতু কলায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি ও ক্যালরি বেশি সেই জন্য সপ্তাহে ১ দিন বা দুদিন অন্য ফলের পরিবর্তে কলা খাওয়া যেতে পারে।
এক নজরে কলার পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম ছোট কলা
কার্বোহাইড্রেট – ৯৯.৬ গ্রাম
প্রোটিন – ৫ গ্রাম
ফ্যাট – ২.৮৮ গ্রাম
ক্যালোরি – ১০৭ ক্যালোরি
ফাইবার (সলিউবল ও ইনসলিউবল)-২.২১ গ্রাম
মিনারেল – ম্যাগনেশিয়াম