দুধকে একটি সম্পূর্ণ খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষত গরুর দুধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল প্রচলিত। দুধে ক্যালসিয়াম ছাড়াও ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপকারী উপাদান থাকে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মস্তিষ্কের উন্নতিতেও দুধের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
তবে, কাঁচা গরুর দুধ সরাসরি খাওয়া উচিত নয়! কারণ কাঁচা দুধে অনেক ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এই কারণে দুধ সবসময় ফুটিয়ে বা গরম করে খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, দুধ গরম করার সময় বিপত্তি ঘটে – অসাবধানতাবশত দুধ পুড়ে যায়।
দুধ গরম করার সময় যদি পাত্রের তলার অংশ বেশি গরম হয়ে যায়, তাহলে সেই দুধ পুড়ে যেতে পারে এবং পোড়া গন্ধ আসতে শুরু করে। তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দুধ ফেলে দিতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দুটি সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং পোড়া দুধকে ফেলে দিতে হবে না।
১. তেজপাতা ও সুগন্ধি মশলার ব্যবহার:
যদি দুধ পুড়ে যায় এবং পোড়া গন্ধ আসে, তবে প্রথমে পুড়ে যাওয়া দুধকে অন্য একটি পরিষ্কার পাত্রে সাবধানে ঢেলে নিন, যাতে পুড়ে যাওয়া অংশ পাত্রের তলায় থেকে যায়। এবার একটি প্যানে ১ চা চামচ দেশি ঘি গরম করে তাতে ১টি তেজপাতা, ১টি ছোট এলাচ, ১টি বড় এলাচ ও ২-৩টি দারচিনি লম্বা করে ভেজে নিন। এই ভাজা মশলার মিশ্রণটি দুধে ৪-৫ ঘণ্টা রেখে দিন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন দুধ থেকে পোড়া গন্ধ অনেকটাই চলে গিয়েছে। এই মশলার সুগন্ধ পোড়া গন্ধকে ঢেকে দেবে।
২. দারচিনি দিয়ে তীব্র পোড়া গন্ধ দূর করা:
যদি দুধ খুব বেশি পুড়ে যায় এবং পোড়ার গন্ধ অত্যন্ত তীব্র হয়, তাহলে প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে সাবধানে দুধ সরিয়ে নিন। এরপর ১ ইঞ্চি লম্বা ২ টুকরো দারচিনি দেশি ঘিতে হালকা গরম করে সরাসরি দুধে দিয়ে দিন। এতে করে দুধে পোড়া গন্ধ অনেকাংশে কমে যাবে। দারচিনির তীব্র এবং মিষ্টি সুগন্ধ পোড়া গন্ধকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
এই সহজ কৌশলগুলি অবলম্বন করে আপনি পোড়া দুধকে ফেলে দেওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারেন এবং এটি আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারেন।