তিন কোটি টাকায় অস্ত্রোপচার, কৃত্রিম স্তন হয়ে উঠল ভয়ঙ্কর অসুখের কারণ

যৌবন ধরে রাখতে এবং স্বপ্নসুন্দরী চেহারা পাওয়ার লক্ষ্যেই স্তন উত্থাপন করার জন্য চিনের এক মহিলা অস্ত্রোপচার করাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারই তাকে পরিণত করল ভয়ঙ্কর শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন। ২০১৭ সালে, দক্ষিণ-পূর্ব চিনের জিয়াংশি প্রদেশের বাসিন্দা লিং লিং নামের ওই মহিলা একটি কৃত্রিম স্তন বসানোর জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করান। তবে, শেষ পর্যন্ত তার শরীরের জন্য সেই কৃত্রিম স্তন হয়ে উঠল এক বিপদ।
হংকংয়ের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, লিং লিং প্রথমে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে যোগাযোগ করেন, পরে তাঁকে বেজিং-এর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কসমেটিক সার্জন তাকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের উপাদান দিয়ে স্তন উত্থাপন প্রক্রিয়া করতে পরামর্শ দেন। লিং লিং সেই উপদেশ মেনে অস্ত্রোপচার করান। তবে কিছুদিন পর থেকেই লিং লিং-এর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং চিকিৎসকরা জানান, কৃত্রিম স্তনের কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে।
এরপর, সাত বছর ধরে মোট নয়বার অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন লিং লিং। বারবার চেষ্টা করা হলেও কৃত্রিম স্তন প্রতিস্থাপন সঠিকভাবে হয়নি। অবশেষে, সাংহাইয়ের একটি বড় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দেখা যায়, স্তন উত্থাপনের জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলি পেটের কাছে জমে গিয়েছে, গলে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। এমনকি, ত্বকের বিভিন্ন অংশ থেকে পুঁজের মতো বেরিয়ে আসছে।
তড়িঘড়ি আবার অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। আরও চমকপ্রদভাবে, লিং লিং-এর কৃত্রিম স্তনের ভিতরে উট, গোরিলা এবং বাদুড়ের মত একাধিক পশুর ডিএনএ পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত না যে, স্তন উত্তোলনের জন্য পশুর চর্বি ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা, তবে তারা বলেছেন যে এই ঘটনার শারীরিক এবং মানসিক প্রভাব লিং লিং-এর জন্য অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। তাঁকে আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্তও ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা।
এখন তদন্ত শুরু হয়েছে আগের হাসপাতালের বিরুদ্ধে, এবং সেখানে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদানগুলির সঠিক উৎস জানার চেষ্টা চলছে।