আজকাল ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারসপিরেন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। দাঁত মাজা বা চুল আঁচড়ানোর মতোই, কোথাও বেরোনোর আগে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা আমাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডিওডোরেন্ট পাওয়া গেলেও, এগুলোর অধিকাংশই সিন্থেটিক এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থে পরিপূর্ণ। প্রতিদিন আমাদের ত্বক এই রাসায়নিক শোষণ করে নেয়, যার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টিপারসপিরেন্ট ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট কয়েকটি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আজ আলোচনা করা হলো:
১) ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা: ডিওডোরেন্টে সাধারণত প্রোপিলিন গ্লাইকল (Propylene Glycol) নামক একটি যৌগ থাকে। এই উপাদানটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন—লাল গুটি বের হওয়া বা ত্বক জ্বালা করার কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই যৌগটি নিউরোটক্সিকও বটে, যা আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে। রোল-অন বা স্টিক ডিওডোরেন্টে প্রোপিলিন গ্লাইকলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
২) অ্যালঝাইমারস ডিজিজের ঝুঁকি: অ্যান্টিপারসপিরেন্টের প্রধান উপাদান হলো অ্যালুমিনিয়াম। এই উপাদানটি ডিমেনশিয়া এবং অ্যালঝাইমারস ডিজিজের মতো বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এছাড়াও, বারবার ডিওডোরেন্টের গন্ধ শুকলে হাঁপানির (অ্যাজমা) সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৩) হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: বেশিরভাগ ডিওডোরেন্টে প্রিজারভেটিভ হিসেবে প্যারাবেন্স (Parabens) ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে মেয়েদের অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দেখা দেয় এবং এমনকি অল্প বয়সেই বয়ঃসন্ধি শুরু হতে পারে। ডিওডোরেন্টে সাধারণত প্রোপাইলপারাবেন (Propylparaben), মিথাইলপারাবেন (Methylparaben), ইথাইলপারাবেন (Ethylparaben) অথবা বিউটাইলপারাবেন (Butylparaben) প্যারাবেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪) ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ করে দেওয়া: ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টিপারসপিরেন্ট ব্যবহারের ফলে আমাদের ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অথচ ঘামের মাধ্যমেই শরীর থেকে বহু ক্ষতিকর টক্সিন (Toxins) বেরিয়ে যায়। রোমকূপ বন্ধ থাকলে সেই টক্সিনগুলো শরীরের অভ্যন্তরে জমা হতে থাকে। এর ফলে শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এবং এমনকি ক্যান্সারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সুতরাং, আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও, নিয়মিত ডিওডোরেন্ট এবং অ্যান্টিপারসপিরেন্টের ব্যবহার আপনার শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এই ধরনের রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সম্ভব হলে প্রাকৃতিক বিকল্পের সন্ধান করা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার শরীরের সুস্থতার জন্য সচেতন হন আজ থেকেই।