জীবন বাঁচাতে যে ১০টি উপায়ে তেল কম খাবেন, বিস্তারিত জানতে পড়ুন

বাঙালির রসনা বিলাসে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো রান্নার তেল। প্রাচীন কালে ঘানিতে ভাঙা সরিষার তেল কিংবা হালের সয়াবিন তেল, রান্নায় বাঙালি তেল ব্যবহার করবে না এ কথা ভাবাই যায় না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ মোটামুটি তেল ছাড়া খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত। আমাদের দেশে যেভাবে রান্নায় তেল ব্যবহার হয়, তা বিশ্বের আর কোথাও হয় কি-না সন্দেহ।
তেলের যে ক্যালোরি খাবারের মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে তা যদি খরচ না হয় তাহলে বিভিন্ন জটিল রোগের কারণে জীবন সংশয় হতে পারে। তাই অকালে প্রাণ হারানোর হাত থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব তৈলাক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন। আমরা দেহ আপনার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নিয়ে এসেছি ১০টি টিপস, যা মেনে চললে আপনাকে অতিরিক্ত তেল খেয়ে বিপদে পড়েতে হবে না।
১. ডুবো তেলে রান্নার অভ্যাস ত্যাগ করুন
ডুবো তেলে রান্না বা ভাজি করা যেকোনো খাবার আপনার হৃৎপিণ্ডের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। সেই সাথে সরু করে দিতে পারে রক্তনালীগুলো, হতে পারে স্ট্রোক। স্ট্রোক হলে হয়তো আপনি চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে থাকবেন, নয়তো মেনে নিতে হবে অপূরণীয় ক্ষতি। তাই ডুবো তেলে রান্না করা খাবার বিশেষ করে ফাস্টফুডগুলো সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন।
২. সেদ্ধ খাবারের প্রতি মনোযোগ দিন
উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেদ্ধ খাবার খাওয়ার প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশের মানুষের মুখে তা রোচে না। শুধু মাত্র সেদ্ধ করে হালকা লবণ ও মসলা ছিটিয়ে খেয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য সচেতন সেসব দেশের মানুষেরা। এতে তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না। এর ঠিক উল্টো চিত্র আমাদের দেশে। তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সেদ্ধ খাবারের প্রতি মনোযোগী হোন।
৩. তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন
সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, আলুর চপ, বেগুনি কিংবা চিকেন ফ্রাই জাতীয় খাবারগুলো এখন থেকেই এড়িয়ে চলুন। নয়তো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে স্বাস্থ্যের ভয়াবহ অবনতি। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন আপনার চারপাশে কত কত লোক ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল, ফ্যাটি লিভার, পিত্তে পাথর কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যায় আক্রান্ত। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে না চাইলে তেলে ভাজা খাবার কে না বলুন।
৪. বাইরের কোনো খাবার খাবেন না
বাইরে যেসব খাবার পাওয়া যায় সেগুলো দেখলে মনে হয় হয়, দেশে বোধহয় তেলের খনি রয়েছে আর যারা এই খাবারগুলো বিক্রি করছেন, তারা একেক জন্য তেলের খনির মালিক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খোঁজ নিলে দেখা যায় তারা রান্নায় পুরনো তেল ব্যবহার করে। অস্বাস্থ্যকর তেলে রান্না খাবার আপনার গ্যাসের সমস্যার জন্যও দায়ী। তাই বাইরে খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন। বাসা থেকে খাবার নিয়ে যান।
৫. রেস্তরায় যাওয়া বন্ধ করুন
রেস্তরায় খাবার খাওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছে আমাদের দেশে। এই সংস্কৃতির পরিণতি কতটা ভয়াবহ তা আর কয়েক দশক পর বোঝা যাবে। রেস্তরায় খাবারগুলো রান্নায় এত তেল ব্যবহার করা হয় যে, এক বেলায় যে পরিমাণ ক্যালোরি আপনি রেস্তরায় খাবেন, তা দিয়ে অন্তত আপনার শরীর ২ দিন অনায়াসে চালিয়ে নিতে পারবে। তাই তেল খাওয়ার পরিমাণ কমাতে রেস্তরায় খাওয়াও বন্ধ করুন।
৬. পুষ্টিবিদের পারমর্শ নিন
প্রতিদিন আপনার কত ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করতে হবে সেজন্য একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। পুষ্টিবিদ আপনাকে নির্দিষ্ট একটি ডায়েট চার্ট করে দেবেন, যেন আপনি সুষম পরিমাণে সকল খাবার গ্রহণ করতে পারেন। সেখানে তেল চর্বি জাতীয় খাবার কতটুকু খেতে হবে তাও উল্লেখ করে দেবেন পুষ্টিবিদ।
৭. তেল ছাড়া রান্নার উপায় শিখুন
ইন্টারনেট ঘাঁটলেই তেল ছাড়া রান্নার অনেক প্রণালী পাওয়া যাবে। আর নিজের রান্না নিজে করে খাওয়ার মধ্যেও এক ধরণের আনন্দ রয়েছে। তাই তেল ছাড়া রান্না করতে শিখুন, নিজেকে নিজে একটি স্বাস্থ্যকর জীবন উপহার দিন।
৮. খালি পেটে দাওয়াতে যাবেন না
দাওয়াতে সাধারণত ভারি খাবার খাওয়ানো হয়, তাই একদম খালি পেটে অর্থাৎ খিদে নিয়ে দাওয়াত খেতে যাবেন না। তেল চর্বিযুক্ত লোভনীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমাতে দাওয়াতে খেতে হবে নিয়ম রক্ষার জন্য। এজন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অল্প পরিমাণ খাবার খেয়ে নিন, যেন দাওয়াতে চাইলেও বেশি খাবার খেতে না পারেন।
৯. ফুড গ্রুপ থেকে লিভ নিন এবং পেজ আনলাইক করুন
আমাদের ফেসবুক নিউজ ফিডে বিভিন্ন ফুড গ্রুপ এবং পেজের আপডেট অকারণে খাবারের প্রতি লোভ বাড়িয়ে দেয়। চোখের সামনে লোভনীয় খাবারের ছবি নিজের অজান্তেই খাবার অর্ডার করতে আপনাকে প্রলুব্ধ করে। তাই এসব গ্রুপ থেকে লিভ নিন এবং পেজ আনলাইক করুন।
১০. ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ডিলিট করুন
আমাদের মোবাইল ফোনে একটি হলেও ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ইন্সটল করা আছে। এসব অ্যাপ আপনাকে বারবার নোটিফিকেশন দিয়ে তাদের আপডেট জানায়, ফলে আপনার ইচ্ছা হয় একটা খাবার অর্ডার করতে। এই খাবার গুলোও বিভিন্ন রেস্তরার তৈরি, যার বর্ণনা উপরে পেয়েছেন। তাই তেল চর্বিযুক্ত খাবার থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য এই অ্যাপগুলো ডিলিট করুন এখনই।
প্রিয় পাঠক, আমাদের দেহের ভারসাম্য রক্ষায় তেলের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই যেমন ভালো না, তেলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আসুন আমরা খাবারে তেলের ব্যবহার কমিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হই এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পোস্টটি শেয়ার করি। ধন্যবাদ Tips-24 এর সাথে থাকার জন্য।