আমরা যখন কোনো পণ্য কিনি, তখন অবশ্যই তার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিশ্চিত হই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বোতলজাত জল কেনার সময় বোতলের গায়ে লেখা মেয়াদের কথা মনে থাকে না বেশিরভাগেরই। আপনি হয়তো ভাবছেন, জলের আবার মেয়াদ কী? তাহলে প্রশ্ন হলো— জলের যদি মেয়াদের দরকার না হয়, তবে কেন বোতলের গায়ে মেয়াদ উল্লেখ করা থাকে?
মেয়াদোত্তীর্ণ জল কি পান করা যাবে?
প্রতিদিন বাইরে বের হওয়া অসংখ্য মানুষের পক্ষে সব সময় বাড়ি থেকে জল নিয়ে চলাফেরা করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে কেনা জলই একমাত্র ভরসা। কিন্তু জলশূন্যতা থেকে নানা অসুখ হতে পারে। তাই যদি দেখেন জলর বোতলের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, তবে কি তা পান করবেন?
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
-
জল কতদিন ভালো থাকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ জল অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। জল এত সহজে নষ্ট হয় না।
-
আসল সমস্যা প্লাস্টিকে: সাধারণ জলের তুলনায় প্যাকেটজাত জল দ্রুত নষ্ট হতে পারে। কারণ, জল উচ্চ তাপমাত্রা এবং সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে বোতলে থাকা পলিথিন টেরেফথালেট (Polyethylene Terephthalate) বা অন্যান্য প্লাস্টিক উপাদান জলতে দ্রবীভূত হতে শুরু করে।
-
ক্ষতিকর প্রভাব: এর ফলে জল কার্বনেটেড হয়ে যেতে পারে, জলের স্বাদ বদলে যায় এবং এক ধরনের কটু গন্ধ আসতে পারে।
মেয়াদোত্তীর্ণ জল পান করলে কী হয়?
প্লাস্টিকের রাসায়নিক মিশ্রিত মেয়াদোত্তীর্ণ জল পান করলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে:
১. প্রজনন সমস্যা (Reproductive Issues): প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদান প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। ২. স্নায়বিক সমস্যা (Neurological Issues): স্নায়বিক সমস্যা বা নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। ৩. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষতি: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৪. স্বাদ ও গন্ধের পরিবর্তন: বোতল তৈরির উপাদান জলর স্বাদ ও গন্ধ বদলে দেয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়।
তাই, জল কেনার সময় অবশ্যই মেয়াদের তারিখ দেখুন এবং সরাসরি সূর্যের আলো বা গরমে রাখা বোতলজাত জল পান করা থেকে বিরত থাকুন।