চোখ মানবদেহের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় অঙ্গ। চোখের সৌন্দর্য মুখের সামগ্রিক কাঠামোকে প্রভাবিত করে। কিন্তু সুন্দর চোখের চারপাশে যদি অঁচকানো রেখা বা রিঙ্কেল দেখা যায়, তা অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিঙ্কেল বাড়া স্বাভাবিক হলেও, অনেকের কম বয়সেই এই সমস্যা দেখা দেয়, যা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। বাজারে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া গেলেও, কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
যেসব কারণে রিঙ্কেল বাড়ে এবং যা এড়িয়ে চলবেন:
সূর্যের অতিরিক্ত আলো: রোদে বেশি সময় ব্যয় করা যাবে না। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি ত্বকের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে দ্রুত রিঙ্কেল তৈরি করে। তাই রোদে বেরোলে সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি।
চোখ ঘষার অভ্যাস: ঘন ঘন চোখ ঘষার অভ্যাস থাকলে তা চোখের চারপাশের পেশীগুলোর ক্ষতি করে এবং রিঙ্কেল সৃষ্টি করে। এই অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।
ধূমপান: ধূমপানে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে এবং রিঙ্কেল তৈরির অন্যতম কারণ। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা দ্রুত ত্যাগ করা উচিত।
চোখ কুঁচকে হাসা: অনেকের চোখ কুঁচকে হাসার অভ্যাস থাকে, যা চোখের চারপাশের পেশীগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সেগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলেও চোখের চারপাশে কুঁচকানো রেখা দেখা যায়।
রিঙ্কেল কমাতে কার্যকরী ঘরোয়া উপায়:
আনারস: আনারসে থাকা ব্রোমেলিন নামক এনজাইম রিঙ্কেল কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। যে জায়গাগুলোতে রিঙ্কেল পড়েছে, সেখানে আনারসের রস লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি চোখের চারপাশের কোঁচকানো রেখা কমাতে সাহায্য করবে।
শসা: শসা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার পাশাপাশি রিঙ্কেল কমাতেও সহায়তা করে। এছাড়াও, শসা ডার্ক সার্কেল (ডার্ক সার্কেল) এবং পিগমেন্টেশন (পিগমেন্টেশন) হ্রাস করতে খুব কার্যকর। নিয়মিত শসার টুকরো চোখের উপর বা চারপাশে ব্যবহার করা যেতে পারে।
অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল দিয়ে চোখের চারপাশে মালিশ করলে রিঙ্কেলের সমস্যা কমে। এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ রাখে এবং মুখের সূক্ষ্ম রেখাও কমিয়ে দেয়। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা হাতে মালিশ করা যেতে পারে।
দই ও লেবুর রস: দইয়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দই ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং চোখের চারপাশের পেশীগুলোকেও মজবুত করে।
এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে চোখের চারপাশের রিঙ্কেল সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে এবং ত্বক তার তারুণ্য ফিরে পাবে। তবে, যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, যাতে কোনো অ্যালার্জির সমস্যা না হয়।