চুল পড়া অনেকের কাছেই এক ভয়াবহ দৃশ্য, যার কারণে অনেকেই দরকার হলেও চুল ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকেন। বাজারে বহু দামি ওষুধ ব্যবহার করেও যখন চুল পড়া বন্ধ হয় না, তখন সমাধান পেতে অর্থ ও সময় নষ্ট না করে আয়ুর্বেদের শরণাপন্ন হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে চুলপড়া রোধ করার সহজ এবং কার্যকরী প্রতিকার রয়েছে, যা অর্থ খরচও কমায়।
আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা অনুযায়ী চুলপড়া রোধের তিনটি কার্যকর প্রতিকার নিচে তুলে ধরা হলো:
১। ভ্রিংরাজ (Bhringraj): চুলপড়া বন্ধে ভ্রিংরাজকে সবচেয়ে কার্যকরী ঔষধি ব্যবস্থা হিসেবে মনে করা হয়। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলের অকালপক্কতা বা ধূসর রং দূর করতে সহায়ক।
-
পদ্ধতি: প্রথমে কিছু শুকনো ভ্রিংরাজ জলে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় (স্ক্যাল্পে) ভালো করে প্রয়োগ করুন। নিয়মিত এর তেল মালিশ করলেও একই ফল পাবেন।
২। আমলা (Amla/Indian Gooseberry): চুলপড়া রোধের আলোচনায় আমলার উল্লেখ অপরিহার্য। এই ফলে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলের ধূসরতা দূর করতে সহায়তা করে।
-
পদ্ধতি: এই সুবিধাগুলো পেতে আপনি নিয়মিত আমলার জুস পান করতে পারেন অথবা আমলার তেল ব্যবহার করতে পারেন।
-
অন্য বিকল্প: শুকনো আমলা গুঁড়ো করে এর সঙ্গে হেনা (Mehedi) ও দইয়ের মিশ্রণ তৈরি করে চুলে প্রয়োগ করুন। দুই ঘণ্টা রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর চুলের গোড়া শক্ত করতে আমলা ও লেবুর রসের মিশ্রণও স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩। নিম (Neem): ত্বকের সমস্যা ও চুলপড়া রোধে নিম একটি চমৎকার আয়ুর্বেদীয় প্রতিকার। এটি নিয়মিত ব্যবহারে চুলের গোড়া শক্ত করে এবং মাথার রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। নিম খুশকি, উকুন, চুলের শুষ্কতা এবং একজিমার মতো সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
-
পদ্ধতি: তাজা নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে তা সরাসরি স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করতে পারেন।
-
অন্য পদ্ধতি: একমুঠো নিম পাতা জলে ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হলে সেই জল মাথায় প্রয়োগ করে দুই ঘণ্টা পর পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি সপ্তাহে তিন দিন প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন।