চুলের স্বাভাবিক রঙে পরিবর্তন আনার প্রবণতা আজকাল অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। স্টাইলের অংশ হিসেবে চুলে কালার করা এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে কালার করার পর চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। যারা নতুন করে চুলে রঙ করার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য রইল কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
যা করবেন:
সঠিক রঙের নির্বাচন: চুলের জন্য কোন রঙ বেছে নিচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কালার ব্যবহার করুন যাতে প্রাকৃতিক অ্যামোনিয়া মুক্ত থাকে। এতে চুলের ক্ষতি অনেকটাই কম হবে এবং শ্যাম্পু করার পরও রঙ বিবর্ণ হবে না।
কন্ডিশনারের ব্যবহার: কালার করার পর প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। কন্ডিশনার চুলের কিউটিকল সিল করতে সাহায্য করে, যা রঙের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
চুলকে ময়েশ্চারাইজ রাখুন: আপনার চুলকে সবসময় ময়েশ্চারাইজ করার চেষ্টা করুন। চুলে এবং মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় থাকলে চুলের পুষ্টি ঠিক থাকে এবং কালার উজ্জ্বল ও চকচকে দেখায়। এটি চুলের কোমলতাও বজায় রাখে।
ক্লোরিন থেকে সুরক্ষা: সুইমিং পুলে যাওয়ার আগে চুলে শাওয়ার নিতে পারেন, যা ক্লোরিন থেকে চুলকে রক্ষা করবে। পুল থেকে ওঠার পর ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
যা করবেন না:
তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্রের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: স্টাইলিশ ব্রাশ, বৈদ্যুতিক ব্রাশ, প্লেট বা ড্রায়ারের মতো তাপ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এগুলো চুলকে সাময়িকভাবে পরিপাটি দেখালেও চুল শুষ্ক করে দেয় এবং রঙের ক্ষতি করে।
গরম জল পরিহার করুন: স্নানের সময় গরম জল এড়াতে হবে, কারণ এটি চুলের কিউটিকল খুলে দেয়। এতে রঙ এবং হাইড্রেশনের জন্য চুল সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
কঠোর রাসায়নিক পরিহার: কঠোর রাসায়নিক এবং বিষাক্ত পদার্থযুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না। এর বদলে ভেষজ চুলের রঙ নির্বাচন করুন এবং চুলের যত্নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গুণমানে বিনিয়োগ করুন।
সূর্যের সরাসরি তাপ থেকে বাঁচুন: সূর্যের সরাসরি তাপ থেকে চুলকে রক্ষা করুন। বাইরে বের হওয়ার সময় টুপি এবং ক্যাপ ব্যবহার করতে ভুলবেন না। অত্যধিক তাপ চুলের ক্ষতি দ্বিগুণ করে দেয়।
চুলে রঙ করা যেমন স্টাইলের অংশ, তেমনি এর সঠিক যত্ন নেওয়াও জরুরি। এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার চুলের রঙ যেমন দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেমনি চুলও থাকবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।





