ঘুমের ওষুধ ডেকে আনতে পারে মৃত্যু! অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হতে পারে ভয়ঙ্কর

ঘুম নিয়ে অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। ঘড়ি ধরে বিছানায় গেলেও সহজে ঘুম আসতে চায় না। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতেই কেটে যায় রাতের পর রাত। এই সমস্যায় ভোগা অনেকেই ঘুমের আশায় ওষুধের সাহায্য নিয়ে থাকেন। তবে ঘুমের ওষুধের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ, এমনকি মৃত্যুও!

বছর খানেক আগে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংক্রান্ত পত্রিকা ‘বিএমজে ওপেন জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দিতে পারে। এছাড়াও, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।

ওই গবেষণাপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর ৩ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ ৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে।

মার্কিন গবেষক ড্যানিয়েল ক্রিপকে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে জানান, যারা বছরে ১৩২ বার বা তার বেশি ঘুমের ওষুধ খান, তাদের শরীরে একাধিক জটিল সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, স্নায়ুঘটিত বিভিন্ন সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক অসুস্থতা।

ক্রিপকে আরও সতর্ক করে বলেন, গর্ভবতী মহিলারা যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করেন, তবে গর্ভস্থ ভ্রূণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম নেওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

এছাড়াও, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ঘুমের ওষুধ রক্তের লোহিত ও শ্বেত কণিকার কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। ঘুমের সমস্যার সমাধানে প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করা এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।