গ্রীষ্মের হলুদ ছোঁয়া, অমলতাস শুধু সুন্দর নয়, গুণেও অনন্য!

গ্রীষ্মের আগমনীর সঙ্গেই বাংলার পথে প্রান্তরে দেখা মেলে উজ্জ্বল হলুদ রঙের এক নয়নাভিরাম ফুলের সম্ভার – অমলতাস। ঝুলন্ত সোনালী ফুলের স্তবক যেন গ্রীষ্মের রৌদ্রকরোজ্জ্বলতাকে আরও মনোরম করে তোলে। এই ফুল শুধু সৌন্দর্যেই মুগ্ধ করে না, এর ভেষজ গুণাগুণও বহুবিধ। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এই ফুল সোনালু বা বাঁদর লাঠি নামেও পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অমলতাস গাছের বিভিন্ন অংশ নানাভাবে আমাদের উপকারে আসতে পারে।

দক্ষিণ ভারতের কেরল ও তামিলনাড়ুতে গ্রীষ্মের আগমন বার্তা নিয়ে আসে এই অমলতাস। মালয়ালম নববর্ষ উদযাপনে এই ফুলের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে মনে করা হয়, অমলতাসের ফোটা যেন চাষাবাদের নতুন মরশুমের সূচনা করে। এই অমলতাস শুধু সংস্কৃতিতেই নয়, তার ভেষজ গুণের জন্যও সমাদৃত।

কামরাজ কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক পোনরথি জানিয়েছেন, আয়ুর্বেদে এই ফুল ‘অরগবাধা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ ‘রোগকে যে বধ করে’। তিনি আরও বলেন, “এই গাছের প্রতিটি অংশ, যেমন ছাল, কাণ্ড, পাতা এবং মূলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান বিদ্যমান।”

দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদ চর্চার সঙ্গে যুক্ত ডা. দামোদর প্রসাদ চতুর্বেদী জানান, অমলতাস চর্মরোগ, জ্বর, কোষ্ঠকাঠিন্য, সর্দি, কাশি এবং ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অমলতাসের পাতা বেশি পরিমাণে সেবন করলে শরীর অসুস্থও হতে পারে, এমনটাই বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, শরীরের কোথাও কেটে বা ছড়ে গেলে অমলতাসের পাতার পেস্ট লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া, খিদে কমে গেলে বা ঠান্ডা লাগলে অমলতাসের ফলও নাকি বেশ উপকারী। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে অমলতাসের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সংক্রমণ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অমলতাস নিঃসন্দেহে একটি উপকারী উদ্ভিদ, তবে এর সঠিক ব্যবহারবিধি জানা অত্যাবশ্যক। গ্রীষ্মের এই হলুদ আভায় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি, এর ভেষজ গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত থাকাটাও জরুরি।