এই গ্রীষ্মের দাবদাহে বাচ্চাদের টিফিনের জন্য এমন খাবার বাছা জরুরি, যা তাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখবে, সহজে হজম হবে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিও যোগাবে। অতিরিক্ত তেল-মশলা দেওয়া খাবার এই সময় এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তাই মায়েরা বেছে নিতে পারেন কিছু স্বাস্থ্যকর, সহজপাচ্য এবং চটজলদি তৈরি করা যায় এমন কিছু খাবার। নিচে কয়েকটি বিকল্প দেওয়া হলো:
১. ছাতু পরোটা:
ছাতু প্রোটিন ও ফাইবারের একটি দারুণ উৎস। গমের আটা বা ময়দার সাথে ছাতু মিশিয়ে নরম পরোটা বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে সামান্য মশলা এবং কুঁচি করে পেঁয়াজ মিশিয়ে দিলে স্বাদ বাড়বে। শিশুরা এটি সহজে খেতে পারবে এবং দীর্ঘক্ষণ তাদের পেট ভরা থাকবে।
২. বেসনের চিলা রোল:
বেসনের ব্যাটারে বিভিন্ন ধরনের কুঁচি করা সবজি মিশিয়ে পাতলা পাতলা চিলা তৈরি করুন। এরপর এর ভেতরে সামান্য চাটনি বা মাখন লাগিয়ে রোল করে টিফিনে দিন। এই খাবারটি প্রোটিন ও ভিটামিনের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার সরবরাহ করবে, যা গ্রীষ্মকালে বাচ্চাদের শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
৩. মিক্সড ভেজিটেবল পরোটা:
গাজর, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকাম-এর মতো সবজি কুঁচি করে ময়দার সাথে মিশিয়ে পরোটা তৈরি করলে তা শিশুদের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার হবে। এই পরোটায় প্রাকৃতিক ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর থাকে, যা বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. পনির রোল:
পনির ছোট ছোট করে কুঁচি করে তার সাথে টমেটো ও পেঁয়াজ মিশিয়ে সামান্য মশলা দিয়ে রোল তৈরি করতে পারেন। পনিরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় এটি বাচ্চাদের পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়।
৫. সুজি উপমা:
সুজি বা সেমোলিনা দিয়ে তৈরি উপমা একটি হালকা এবং খুব সহজে হজমযোগ্য খাবার। এর মধ্যে মটর, গাজর, ক্যাপসিকাম-এর মতো বিভিন্ন সবজি যোগ করে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ানো যেতে পারে। কম তেলে রান্না করা এই খাবার গরমের দিনে শিশুদের শরীর ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে।
৬. দই-চিঁড়ে মিক্স:
চিঁড়ে ভালোভাবে ধুয়ে ঠান্ডা দইয়ের সাথে মিশিয়ে সামান্য মধু বা পছন্দের ফলের টুকরো যোগ করে টিফিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। এটি খুব দ্রুত তৈরি করা যায় এবং গরমের দিনে বাচ্চাদের শরীরে জলের চাহিদাও পূরণ করে।
এই গরমে আপনার সন্তানের টিফিন হোক স্বাস্থ্যকর আর মজাদার!