গরম কফি প্রেমীদের জন্য সুখবর! ঠান্ডা কফির চেয়েও বেশি উপকারী গরম কফি!

কফির চনমনে স্বাদ ও গন্ধ ভালোবাসেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কফির আবেদনটাই যে এমন! কিন্তু আপনি কোন ধরনের কফি পান করতে পছন্দ করেন – গরম নাকি ঠান্ডা? যদি গরম কফির পেয়ালায় চুমুক বসাতে ভালোবাসেন, তবে আপনার জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর।
গবেষকেরা বেশ কয়েকটি গবেষণা ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ঠান্ডা কফির তুলনায় গরম কফিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা অনেক বেশি থাকে।
ফিলাডেলফিয়া এবং থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটির রসায়নবিদগণ দুই ধরনের কফির মধ্যে তুলনা করে দেখেছেন যে, গরম কফি তৈরির প্রক্রিয়ার ফলে প্রচুর পরিমাণে টাইট্রেবল অ্যাসিড (Titratable acid) উৎপন্ন হয়। এই টাইট্রেবল অ্যাসিড পুরো শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে উপকারী ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে, ঠান্ডা কফি তৈরি করার পদ্ধতি এবং এটি ঘরের তাপমাত্রায় বা ঠান্ডা থাকার ফলে কফির উপকারিতা অনেকটাই কমে যায়। এদিকে, গরম ও ঠান্ডা কফির উপকারিতা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা অন্যান্য গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেন যে, গরম কফি (যেমন অ্যামেরিকানো) এবং কোল্ড কফির পিএইচ (pH) এর মাত্রা প্রায় সমান এবং উভয় পানীয়তে প্রায় একই মাত্রায় অ্যাসিডিক ভাব বিদ্যমান।
তাহলে কি উভয় প্রকার কফির উপকারিতা একই রকম? গবেষকেরা যা জানাচ্ছেন, সেটা কি ভুল? এই ভুল ভাঙতেই কোল্ড ও হট কফির মাঝে আরও কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার পর পুনরায় জানা যায়, কোল্ড কফির তুলনায় হট কফির উপকারিতার মাত্রা বেশি। এর কারণ হল পর্যাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং টাইট্রেবল অ্যাসিডের উপস্থিতি, যা শুধুমাত্র গরম কফি পানের ফলেই পাওয়া সম্ভব।
নিজেকে চাঙ্গা রাখতে এবং সুস্থ রাখতে দিনের শুরুটা এক কাপ গরম কফি দিয়ে নিশ্চিন্তে করতেই পারেন।