গরমে রাতেও খান দই! মিলবে ৮টি আশ্চর্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচাতে নিয়মিত দই খাওয়া যে জরুরি, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ দইয়ে উপস্থিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ভিটামিন এবং অন্যান্য খনিজ লবণ যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে – গরমকালে রাতে দই খেলে কি সত্যিই শরীরের কোনো ক্ষতি হয়? উত্তর হল, না, তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে এক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন:

কাদের সাবধানে থাকতে হবে: সাধারণত রাতের বেলা দই খেলে শরীরে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু যাদের সহজেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ধাত রয়েছে, তাদের সন্ধ্যার পর দই না খাওয়াই ভালো। কারণ আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে সূর্য ডোবার পর দই খেলে শরীরে মিউকাস জমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সর্দি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

কীভাবে খাবেন রাতে: দিনের বেলা শুধু শুধু দই খাওয়া চললেও, রাতে দই খাওয়ার ইচ্ছা হলে অল্প চিনি বা গোলমরিচ মিশিয়ে খান। এমনটা করলে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং গ্যাস-অম্বলের আশঙ্কা কমবে।

দই ভাত হতে পারে সেরা বিকল্প: রাতের বেলা যদি দই খেতেই হয়, তাহলে দই ভাত একটি চমৎকার বিকল্প। এই খাবারটি শরীরকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

লস্যি বা বাটার মিল্কও ভালো: ঘরে পাতা দই রাতে খেতে মন না চাইলে, এক গ্লাস লস্যি বা বাটার মিল্ক খেতেই পারেন! খাবার হজম করতে যেমন দইয়ের বিকল্প নেই, তেমনি ঘুমের সময় শরীরের নানা ক্ষত নিরাময়েও এই পানীয় দুটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

রায়তাও মন্দ নয়: বেশ কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, রাতের বেলা দই খেলে তার প্রকৃতি একটু পরিবর্তন করে নেওয়াই ভালো। আর এক্ষেত্রে রায়তার থেকে ভালো কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। রাতের বেলা খাবার খাওয়ার পর এক বাটি রায়তা খেলে শরীরের বেশি উপকারই হয়। আর যদি তাতে নানা ধরনের সবজি এবং লঙ্কা মেশানো থাকে তাহলে তো কথাই নেই!

যদি আপনি একজন সুস্থ-সবল মানুষ হন, তাহলে আর দ্বিধা না করে আজ থেকেই রাতের বেলা খাবার শেষে এক বাটি করে দই খাওয়া শুরু করুন। কারণ এমনটা করলে নানাবিধ শারীরিক উপকারিতা পাওয়া যায়:

১. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দই খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যা মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমাতে শুরু করে।

২. ওজন কমে: অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত? তাহলে নিয়মিত এক বাটি করে দই খাওয়া শুরু করুন। বিশেষত ভুঁড়ি কমাতে দইয়ের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে এবং কর্টিজল হরমোনের ক্ষরণও কমে যায়, ফলে ওজন হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়ে।

৩. হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: দুধের মতো দইয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি উপাদান দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: দইয়ে উপস্থিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে সংক্রমণ থেকে ভাইরাল ফিবার, কোনো কিছুই সহজে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

৫. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়: নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন এবং জিঙ্কের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ভিটামিন বি৫ এবং বি১২-এর মাত্রাও বাড়ে।

৬. হজম ক্ষমতা চাঙ্গা হয়ে ওঠে: দইয়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলিতে হজমে সহায়ক ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই বদহজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে দই খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। পেপটিক আলসার সৃষ্টিকারী এইচ পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়াকে মারতেও দই কার্যকর।

৭. হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা কমানোর পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় দই। তাই নিয়মিত এই দুগ্ধজাত খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৮. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়: দইয়ে পরিমাণ মতো বেসন এবং অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না। দইয়ে থাকা জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং ফসফরাস এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে কম করে ২-৩ বার লাগালে দারুণ উপকার মেলে।

সুতরাং, গরমকালে রাতেও দই খান এবং এর অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা উপভোগ করুন!