গরমে ঠান্ডা জল: ভালো না খারাপ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মতামত

ঠান্ডা জলের গ্লাসে চুমুক দেওয়া যেন এক পরম শান্তি। গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে তাই ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেই ঠান্ডা জল পান করতে আগ্রহী হন। জলের অপর নাম জীবন, তাই এর কোনো বিকল্প নেই। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিসিনের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দৈনিক অন্তত ৩.৭ লিটার (প্রায় ১৫.৫ কাপ) এবং মহিলাদের ২.৭ লিটার (প্রায় ১১.৫ কাপ) জল পান করা আবশ্যিক।

তবে ঠান্ডা জল পান করা নিয়ে জনমানসে অনেক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে। কেউ বলেন ঠান্ডা জল শরীরের জন্য ভালো, আবার কারও মতে এটি ক্ষতিকর। কিন্তু সত্যিটা আসলে কী? আসুন, বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে নেওয়া যাক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা জল পান করলে আমাদের অনুনাসিক মিউকাস ঘন হয়ে যায়, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, গরম জল বা চিকেন স্যুপ ঠান্ডার সমস্যায় আরাম দিতে পারে এবং শ্বাস প্রশ্বাসকে সহজ করে তোলে। তাই সর্দি বা কাশিতে ভুগলে ঠান্ডা জল এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যাতেও ঠান্ডা জল পান করা উচিত নয়। ২০০১ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঠান্ডা জল মাইগ্রেনের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও অ্যাকলেসিয়ার (খাদ্যনালীর সমস্যা) রোগীদের খাবারের সঙ্গে ঠান্ডা জল পান করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, গরম খাবারের সাথে ঠান্ডা জল পান করলে শরীরে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। সেই কারণে চীনা সংস্কৃতিতে খাবারের পর গরম জল বা গরম চা পরিবেশন করার চল রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য সংস্কৃতিতেও এই প্রথা লক্ষ্য করা যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পান করলে দাঁতের ভেগাস নার্ভের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে এই স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে, যার ফলে হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে।

ঠান্ডা জল হজমের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। इसीलिए শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউটের পর ঠান্ডা জল পান করা একেবারেই উচিত নয়। ব্যায়ামের পর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এই সময় ঠান্ডা জল পান করলে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল পান করলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাওয়ার পরেই ঠান্ডা জল খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এর ফলে শ্বাসনালিতে শ্লেষ্মার একটি অতিরিক্ত স্তর তৈরি হয়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, গরমে ঠান্ডা জল পান করা তৃপ্তিদায়ক হলেও, এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। তাই বুঝেশুনে এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করাই শ্রেয়। বিশেষত যারা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ঠান্ডা জল পানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা উচিত।