‘থানায় না পৌঁছালে মেরেই ফেলত!’-ফের কুণাল ঘোষের উপর হামলা, একটুর জন্য বাঁচলেন প্রাণে

শনিবারের রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার ফের ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দুদিনের মাথায় পরপর এমন ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ দিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় একদল সশস্ত্র বাইক বাহিনীর আক্রমণের শিকার হন তিনি। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, রবিবারের এই ঘটনায় তাঁর গাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙার পাশাপাশি সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। অন্যদিকে, চালকের দাবি, কোনো রকমে অল্পের জন্য তাঁরা এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।
পরপর দুদিনের এই হামলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। হামলা থেকে কোনোমতে বেরিয়ে আসার পরই তিনি সোজা গাড়ি চালিয়ে চলে যান নারকেলডাঙা থানায়। থানার ভেতরে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয়েছে। বিজেপি আমাকে খুন করবে। আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। থানায় না পৌঁছালে প্রাণে মেরে ফেলত।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ, চলছে তদন্ত
কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। আশপাশের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করতে সংলগ্ন বাড়ি ও দোকানগুলি থেকে সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবারও হামলার মুখে পড়েছিলেন কুণাল
উল্লেখ্য, রবিবারের এই ঘটনার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবারও উত্তরপাড়ায় তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন কুণাল ঘোষ। গতকাল শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁর গাড়ি আটকে প্রবল বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁর গাড়ির ওপর ডিম ছোড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। নিরাপত্তার কড়াকড়ি সত্ত্বেও শনিবারের ওই হামলার জেরে শ্রীরামপুরে তৃণমূল সুপ্রিমোর জনসভায় পৌঁছতেই পারেননি বেলেঘাটার বিধায়ক।
টানা দু’দিন ধরে কুণাল ঘোষের কনভয় ও গাড়ির ওপর এই লাগাতার হামলার জন্য সরাসরি বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছে তৃণমূল শিবির। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য বিজেপির পালটা দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে আদতে তৃণমূলের নিজস্ব অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং দুই গোষ্ঠীর কোন্দল। আপাতত দুটি পৃথক ঘটনারই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।