কেন অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি জন্মায়? কীভাবে রাশ টানবেন এই ইচ্ছেতে?

এই যে আপনি সন্ধের দিকে খিদে পেলেই স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের দিকে রোজ হাত বাড়ান, তার মূল কারণটা কী, জানেন? আসল কালপ্রিট হচ্ছে আপনার মস্তিষ্ক! বিখ্যাত ফুড সায়েন্টিস্ট স্টিভেন উইদারলি বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তির দু’টি কারণ আছে৷ প্রথমটির মধ্যে পড়ে খাবারটির স্বাদ, গন্ধ এবং তা মুখে পোরার পর মুখ গহ্বরের অনুভূতি৷ এই শেষের বিষয়টির পোশাকি নাম হচ্ছে ‘ওরোসেনসেশন’ — জাঙ্ক ফুড ভালো লাগার মূল কারণ হচ্ছে এটিই৷ কোনও সুস্বাদু খাবার বা পানীয় যখন আপনি খাচ্ছেন, তখন যে অনুভূতিটা হচ্ছে, সেটা খেয়াল রাখে আমাদের মস্তিষ্ক৷ জাঙ্ক ফুড মস্তিষ্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, সেই কারণেই আমরা মাঝে মাঝেই এই ধরনের খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি৷ আর দুই নম্বর কারণ হচ্ছে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান৷ সব খাবারেই প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট থাকে, কিন্তু জাঙ্ক ফুড প্রস্তুতকারকরা খাবারে নুন, মিষ্টি আর ফ্যাটের মাত্রাটা এমনই রাখেন যে তা বারবার খাবার ইচ্ছে হয়৷

কীভাবে রাশ টানবেন এই ইচ্ছেতে?
চোখের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার রাখবেন না: ফ্রিজে বা রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর খাবার থাকলেও একেবারে পিছনের তাকে রাখুন৷ সামনে রাখুন স্বাস্থ্যকর খাবার৷ খিদের সময় যেন জাঙ্ক ফুড চট করে চোখে না পড়ে৷

প্রসেসড ফুড কিনবেন না: প্রসেসড ফুড একবার খাওয়া ধরলে কিন্তু নেশা লেগে যেতে পারে, তাই যতদিন সম্ভব তা থেকে দূরে থাকুন৷

21 দিনের নিয়ম মানুন: যে কোনও অভ্যেসে আসক্ত হয়ে পড়তে অন্তত 21 দিন সময় লাগে, নেশা কাটাতেও ন্যূনতম অতগুলি দিনই প্রয়োজন হয়৷ জাঙ্ক ফুডে যাঁরা আসক্ত, তাঁরা অন্ততপক্ষে 21 দিন স্বাস্থ্যকর খাবার খান, তা হলে হয়তো নেশাটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন!

খাবারের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ আনুন: পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় আহার করুন৷ পছন্দের খাবারও খেতে পারেন, তবে পরিমাণটা নির্ধারিত হওয়া উচিত৷

টিভির সামনে বসে খাবেন না: টিভি দেখতে দেখতে খেলে কোনওভাবেই খাবারের পরিমাণের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না৷

ভরা পেটে বাজার করতে যান: সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভরা পেটে বাজার-দোকান করতে গেলে আমরা সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনি না৷ হাতের কাছে জাঙ্ক ফুড না থাকলে খেতেও পারবেন না!