কার্টুন না দেখালে ভাত মুখে তোলে না? সাবধান! এই নেশা ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ

খাওয়ার সময় বাচ্চাদের বায়নার যেন শেষ নেই! মোবাইল বা টিভি ছাড়া এক গ্রাস ভাতও তাদের মুখে তুলতে চায় না। খাবার টেবিলে কার্টুন চললে সেই দিকেই তাদের সর্বক্ষণের মনোযোগ। ফলে খাবার শেষ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

ব্যস্ত জীবনে অনেক বাবা-মা-ই শিশুকে ভুলিয়ে রাখার জন্য তাদের হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেন বা টিভির সামনে বসিয়ে দেন। নিজেদের টুকিটাকি কাজ সেরে নেওয়ার এই সহজ পথ শিশুদের মধ্যে মোবাইল বা টিভির প্রতি এক গভীর নেশা তৈরি করে। মনে রাখবেন, এই আসক্তি ভবিষ্যতে আপনার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

টিভি বা মোবাইলের নেশায় বুঁদ শিশুরা কখনও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে, আবার কখনও এতটাই ধীরে ধীরে খায় যে খাবার ঠান্ডা হয়ে যায় এবং খাওয়ার আগ্রহ চলে যায়। এর ফলে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে, টিভির দিকে মনোযোগ থাকার কারণে শিশুরা খাবার ভালোভাবে না চিবিয়েই গিলে ফেলে। এই কারণে খাদ্যের সঠিক পুষ্টিগুণ তাদের শরীরে পৌঁছায় না এবং পেটের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে এই ক্ষতিকর অভ্যাস বদলানো সম্ভব। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলেই আপনার সন্তানকে এই আসক্তি থেকে মুক্তি দিতে পারেন:

অভ্যাস বদলাতে যা করতে পারেন:

১. নিজেকে বদলান: অনেক বাড়িতেই দেখা যায়, অভিভাবকরা নিজেরাই টিভির সামনে বসে খাওয়াদাওয়া করেন। শিশুরা স্বভাবতই তাদের বাবা-মাকে অনুসরণ করে। তাই প্রথমে নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনুন। খাওয়ার সময় টিভি দেখা বন্ধ করুন।

২. খাওয়ার টেবিলে খাওয়ান: সোফা বা বারান্দায় নয়, শিশুদের খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন। প্রয়োজনে তাদের গল্প শোনাতে পারেন বা তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে পারেন।

৩. টিভির নাগালের বাইরে রাখুন: খাওয়ার সময় শিশু যেন টিভির কাছে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে তাকে বলুন, খাওয়া শেষ হলেই আপনি টিভি চালাবেন, তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এই শর্তের কারণে শিশুরা দ্রুত খাবার শেষ করতে উৎসাহিত হবে।

৪. সময় বেঁধে দিন: খাওয়া শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। আপনিও একই টেবিলে সন্তানের সাথে বসে খাবার খান এবং নির্দিষ্ট সময়ে উঠে পড়ুন। এতে শিশুর মধ্যেও সময় মেনে খাওয়ার তাগিদ বাড়বে।

৫. বিনোদন পরিবর্তন করুন: খাওয়ার সময় শিশুদের টিভি চালিয়ে রাখার পরিবর্তে তাদের ছড়াগান শোনাতে পারেন বা মজাদার গল্প বলতে পারেন। বাচ্চাদের মন সহজেই সেদিকে মগ্ন থাকবে এবং তারা আনন্দ সহকারে খাবার শেষ করবে।

৬. স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন: সারা দিনে টিভি বা মোবাইল দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। বাকি সময় তাদের আঁকা, গল্পের বই পড়া বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজের দিকে উৎসাহিত করুন।

এভাবে ধীরে ধীরে আপনি আপনার সন্তানের মধ্যেকার টিভি বা মোবাইলের প্রতি আসক্তি কমাতে পারবেন এবং তাদের একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। মনে রাখবেন, শৈশবের এই অভ্যাস ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।