দুধ শরীরের জন্য উপকারী হলেও, ত্বকের একাধিক সমস্যা নিবারণে কাঁচা দুধের ব্যবহার বহু পুরনো। কাঁচা দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ডি, বি৬, বি১২, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরাতে ও জৌলুস বাড়াতে বিশেষভাবে কার্যকরী।
ত্বকের পরিচর্যায় কাঁচা দুধ কীভাবে ব্যবহার করবেন, তার ৪টি পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
১. ফেস ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাঁচা দুধ
শুষ্ক ত্বককে আর্দ্র রাখতে কাঁচা দুধ ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ দারুণ কাজ করে।
উপকরণ: ২ থেকে ৩ চামচ ঠাণ্ডা কাঁচা দুধ এবং আধ চামচ গ্লিসারিন।
পদ্ধতি: একটি পাত্রে দুধ ও গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। তুলোর (cotton ball) সাহায্যে এই মিশ্রণ সারা মুখ, এমনকি ঠোঁটেও ভালোভাবে লাগিয়ে নিন।
সময়: অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট মিশ্রণটি মুখে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
২. ফেস ক্লেনজার হিসেবে কাঁচা দুধ
ত্বকের ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করতে কাঁচা দুধ ও হলুদের মিশ্রণ একটি প্রাকৃতিক ক্লেনজার।
উপকরণ: ২ বড় চামচ কাঁচা দুধ এবং এক চিমটে হলুদ।
পদ্ধতি: মিশ্রণটি তৈরি করে তুলোর সাহায্যে মুখ ও গলায় আলতো হাতে লাগিয়ে নিন।
পরিষ্কার করা: কিছুক্ষণ মুখে রেখে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৩. টোনার হিসেবে কাঁচা দুধ
ত্বকের ধরন অনুযায়ী কাঁচা দুধ টোনার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে:
শুষ্ক ত্বক: যাদের ত্বক অল্পেই শুষ্ক হয়ে যায়, তারা কেবল কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এটি ত্বকে আর্দ্রতা যোগাবে।
তৈলাক্ত ত্বক: তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে দুধের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন এবং সেই মিশ্রণ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। লেবুর রস অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
৪. স্ক্রাবার হিসেবে কাঁচা দুধ
মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ করতে এই স্ক্রাবারটি অত্যন্ত কার্যকর।
উপকরণ: ২ বড় চামচ কাঁচা দুধ, ১ বড় চামচ চিনি ও ১ বড় চামচ বেসন।
পদ্ধতি: সবকটি উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিয়ে মুখ আলতো হাতে স্ক্রাব করে নিন।
সময়: স্ক্রাব করার পর ১০ মিনিট ত্বকে রেখে দিন। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে নিন।