এই ৭ ব্যক্তির সাথে ভুলেও তর্ক করবেন না, বলছে শাস্ত্র

তর্ক-বিতর্ক মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, অনেক সময় এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তর্ক-বিতর্ক থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অহমিকা এবং এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়। তাই যতদূর সম্ভব তর্ক এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রাচীন ভারতীয় দর্শন ও শাস্ত্র মতে, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করা থেকে সব সময় বিরত থাকা উচিত।

১. শিক্ষকের সঙ্গে:
শিক্ষকের কাজ হলো জ্ঞান দান করা। যদিও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিনা বিচারে গ্রহণ করার কথা নয়, তবুও শিক্ষাদানের সময় শিক্ষকের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তর্ক শিক্ষাকেই ব্যাহত করে। শিক্ষকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে মন দিয়ে বোঝা জরুরি।

২. বাবা-মায়ের সঙ্গে:
বাবা-মা হলেন জীবনের প্রথম গুরু এবং জীবনদাত্রী। তাদের সঙ্গে তর্ক করা মানে নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। মা এবং বাবা উভয়েই তর্কের ঊর্ধ্বে। তাদের সঙ্গে তর্ক করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করা নিজের সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করার শামিল।

৩. সন্তান:
সন্তানের সঙ্গে তর্ক করা অর্থহীন। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে সন্তানের সঙ্গে তর্ক করা অনিবার্য, তবে চুপ করে যাওয়াই শ্রেয়। কারণ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি আপনারই ভুলের কারণে হয়েছে। আপনার শিক্ষার ত্রুটিই হয়তো সন্তানকে একজন বৃথা তার্কিক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

৪. অতিথি:
প্রাচীন ভারতে অতিথিকে দেবতা হিসেবে গণ্য করা হতো। অতিথি ক্ষণিকের জন্য আপনার গৃহে আসেন। তাই তিনি যতক্ষণ আপনার বাড়িতে আছেন, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার সঙ্গে তর্কে না জড়ানোই ভালো।

৫. জীবনসঙ্গী:
স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে তর্ক করাও অর্থহীন, কারণ তিনি আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি একাধারে জননী, শিক্ষিকা এবং আপনার জীবনের সহচর। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বৃথা তর্কে জড়িয়ে পড়া মানে নিজের জীবনকেই অর্থহীন প্রমাণ করা। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মান একটি সুখী সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য।

এই ব্যক্তিগুলোর সঙ্গে তর্ক এড়িয়ে চললে জীবনে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা সহজ হয়। বিতর্ক করার চেয়ে সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy