ঋতু বদলের সময় মাথার ত্বকের সমস্যা? ঘরোয়া উপায়েই মিলবে সমাধান!

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। ত্বক থেকে শুরু করে চুল পর্যন্ত এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মাথার ত্বকে এই সময় নানা সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কারও খুশকির উপদ্রব বাড়ে, তো কারও চুল অতিরিক্ত তেলতেলে বা রুক্ষ হয়ে যায়। মাথার তালুতে চুলকানির সমস্যাও এই সময়ে বেশ ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

তবে, মাথায় রাখবেন ত্বকের কোনও সংক্রমণ হলে তার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মাথার ত্বকেও সোরিয়াসিস, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা কোনো রাসায়নিকের অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের কারণে যে সাধারণ সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তার সমাধানে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার: অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটারি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। মাথার ত্বকের শুষ্কতা যদি চুলকানির কারণ হয়, তাহলে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ও জলের মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি। সপ্তাহে দু’দিন শ্যাম্পুর পর এক কাপ জলে এক টেবিলচামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে মাথার তালুতে ভালোভাবে লাগান। এরপর ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

টি ট্রি অয়েল: টি ট্রি অয়েল অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক গুণসমৃদ্ধ। এটি প্রদাহ কমাতেও সহায়ক। তবে সরাসরি টি ট্রি অয়েল মাথায় ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার হেয়ার মাস্কে ১০-১২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন, এমনকি শ্যাম্পুর মধ্যেও মেশানো যায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

নারকেল বা অলিভ অয়েল: কোল্ড প্রেসড নারকেল তেল বা অলিভ তেল মাথার তালুর শুষ্কতা দূর করতে খুবই উপযোগী। শুষ্কতার কারণে অনেক সময় মাথায় চুলকানি হয়। সেক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাসাজ করলে উপকার পাওয়া যায়। চুলে তেল মাখার এক ঘণ্টা পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন।

অ্যালো ভেরা জেল: অ্যালো ভেরার পাতার ভেতরের নরম শাঁস বের করে নিন। আঙুল দিয়ে মাথার তালুতে ভালোভাবে মাসাজ করে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা জলে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

লেবুর রস: সরাসরি লেবুর রস কখনোই মাথার তালুতে লাগাবেন না। তবে আপনার তেল, হেয়ার মাস্ক বা প্যাকে মিশিয়ে সপ্তাহে দু-তিনবার ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবহারের পর অবশ্যই শ্যাম্পু করে নেবেন।

মাথার ত্বকের সমস্যা এড়াতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। নিয়মিত আপনার বালিশের ওয়াড়, চিরুনি ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। নিজের ডায়েটের দিকে নজর দিন এবং খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম রাখুন। ঘন ঘন ব্লো ড্রাই বা হিট স্টাইলিং করলে মাথার ত্বকের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। গরম জলে স্নান করাও উচিত নয়। নতুন কোনো হেয়ারকেয়ার প্রোডাক্ট বা ডাই ব্যবহার করার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকুন, কারণ এগুলি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে।