ডলারের প্রবল দাপটে কাঁপছে ভারতীয় টাকা! শেয়ার বাজারে ধসের শঙ্কা, কিন্তু কারা পকেটে পুরবে কোটি কোটি টাকা?

আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ফের শুরু হয়েছে মার্কিন ডলারের তাণ্ডব। ডলারের লাগামহীন শক্তিবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মুদ্রা বাজারে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি কোপ এসে পড়েছে ভারতীয় টাকা এবং দেশীয় শেয়ার বাজারে। বুধবারে ট্রেডিং সেশনে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার ইনডেক্স ০.৫১ শতাংশ বেড়ে ১০১.০৬ পয়েন্টে গিয়ে পৌঁছায়, যা বিগত প্রায় দু’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

ডলারের এই চরম আধিপত্যের কারণে ভারতীয় টাকার মূল্যে ফের রেকর্ড পতন ঘটেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম আরও ১১ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫.৭৩-এ। লেনদেনের এক পর্যায়ে তা ৯৫.৭৬ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল।

ডলারের দাপট বাড়ার নেপথ্যে মূল কারণ কী?

বিশ্ববাজারে ডলার শক্তিশালী হওয়ার পেছনে দুটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা: ১. মার্কিন ফেড রিজার্ভের কড়া নীতি: সাম্প্রতিক বৈঠকে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫-৪ শতাংশের ঘরে নিয়ে এসেছে। ইনফ্লেশন বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন বন্ড ও সম্পদে টাকা রাখা নিরাপদ মনে করছেন। ২. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: ক্রুড অয়েলের দাম বিশ্ববাজারে আবার সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের চাহিদা আরও লাফিয়ে বেড়েছে।

ভারতীয় শেয়ার বাজার ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব

মার্কিন বন্ড থেকে বেশি রিটার্ন মেলার আশায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারত-সহ উদীয়মান বাজারগুলি থেকে তরতর করে টাকা তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর ফলে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (Sensex) ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (Nifty) প্রথম সারির শেয়ারগুলিতে বড়সড় বিক্রির চাপ বা সেল-অফ (Sell-off) তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই অপরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে মেটায়। ডলারের দাম বাড়ায় তেল আমদানির খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি খাতের ঘাটতিকে বিপজ্জনক জায়গায় ঠেলে দিতে পারে। টাকার দামে পতন অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সুদের হার কমানোর পথ থেকে পিছিয়ে আসতে পারে, যার ফলে দেশের কোম্পানিগুলির জন্য ঋণের খরচ আরও বাড়বে।

বিপদের মেঘের মাঝেও কোথায় লুকিয়ে জ্যাকপট?

ডলারের ঊর্ধ্বগতি এবং টাকার পতনে সার্বিক বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও কিছু নির্দিষ্ট সেক্টরের জন্য এটি যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘মেঘ না চাইতেই জল’।

যেসব ভারতীয় সংস্থা মূলত বিদেশে পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানি করে ডলারে উপার্জন করে, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ডলারে আয় করা রাজস্ব ভারতীয় টাকায় রূপান্তর করার সময়ে তা আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি মুনাফা এনে দেবে। বিশেষ করে:

  • তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি (IT Sector): আমেরিকান ক্লায়েন্টদের ওপর নির্ভরশীল দেশের শীর্ষ আইটি সংস্থাগুলির প্রফিট মার্জিন বাড়তে পারে।

  • ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ শিল্প (Pharmaceuticals): বিদেশমুখী ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলিও এই ডলারের শক্তিবৃদ্ধি থেকে অতিরিক্ত লাভ ঘরে তুলবে।