দামি প্রসাধনী ছুড়ে ফেলুন! ঘরে বসেই মাত্র ৩ ধাপে পাবেন দীপিকা পাডুকোনের মতো ‘ন্যাচারাল গ্লো’

রূপালী পর্দার তারকাদের কাঁচের মতো চকচকে ও দাগহীন ত্বক দেখে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—কী তাঁদের এই সৌন্দর্যের রহস্য? দামি বিউটি ট্রিটমেন্ট নাকি কোনো অলৌকিক প্রসাধনী? সম্প্রতি ভক্তদের সেই কৌতুহল মিটিয়ে নিজের একদম সহজ ও সাধারণ স্কিনকেয়ার রুটিন এবং বিউটি হ্যাকস শেয়ার করেছেন বলিউড কুইন দীপিকা পাডুকোন।
দীপিকার মতে, একগুচ্ছ রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে নিয়ম মেনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস বজায় রাখাই ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মাত্র ৩ ধাপে দীপিকার দৈনন্দিন স্কিনকেয়ার
কোনো জটিলতা ছাড়াই মাত্র তিনটি মূল ধাপে নিজের প্রতিদিনের ত্বকের যত্ন নেন এই বলিসুন্দরী:
১. ক্লিনসিং (Cleanse): সারাদিনের জমানো ধুলোবালি ও মেকআপ দূর করতে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করা, যাতে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ না হয়ে যায়। ২. হাইড্রেশন (Hydrate): ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, যা ত্বককে শুষ্কতা থেকে বাঁচায়। ৩. প্রোটেকশন (Protect): ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (UV Rays) প্রভাব থেকে বাঁচাতে বাইরে বেরোনোর আগে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
দীপিকা জানান, কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের বদলে তিনি প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর বেশি জোর দেন। তাঁর ব্যবহৃত স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে পদ্মফুল, গোলাপজল ও হলুদের মতো ভেষজ উপাদানের ছোঁয়া থাকে।
সৌন্দর্য লুকিয়ে খাবারের থালাতেও!
শুধু বাইরে থেকে প্রসাধনী মাখলেই হবে না, ত্বকের মূল গ্লো আসে ভেতর থেকে। দীপিকার ডায়েটে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার। ত্বককে সতেজ রাখতে এবং অকাল বার্ধক্য বা বলিরেখা প্রতিরোধ করতে তিনি বেরি ও সবুজ শাকসবজির মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খান।
সপ্তাহে একদিনের ‘সেলফ-কেয়ার’ সিক্রেট
ব্যস্ত শুটিং শিডিউলের মাঝেও সপ্তাহে অন্তত একদিন ত্বকের জন্য বিশেষ সময় বের করেন দীপিকা:
ফুল বডি মাসাজ: শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সপ্তাহে একদিন বডি মাসাজ নেন তিনি।
ফেস ও হেয়ার মাস্ক: ত্বকের মসৃণতা ধরে রাখতে বিশেষ ফেস মাস্ক এবং চুলের রুক্ষতা দূর করে তা উজ্জ্বল করতে ডিপ কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন।
যা বলছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা
সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীপিকার এই রুটিন অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ও কার্যকরী। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল খেলে শরীরের টক্সিন বাইরে বেরিয়ে যায়। এর সঙ্গে গভীর ঘুম ও প্রতিদিনের হালকা শরীরচর্চা রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বকে স্বাভাবিক গোলাপি উজ্জ্বলতা এনে দেয়।