আপনার অতিরিক্ত নির্ভরতাই কি সম্পর্ক ভাঙছে? সঙ্গীকে ‘স্পেস’ না দিলে কী চরম বিপদ হয়, জানুন!

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারণে-অকারণে সঙ্গী কী করছেন, কোথায় আছেন—এই চিন্তায় অস্থির হয়ে থাকা এবং তার পেছনে লেগে থাকা অনেকেরই অভ্যাস। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সারাক্ষণ এমন মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শুধু সম্পর্কেরই ক্ষতি করে না, বরং আপনার নিজস্ব মানসিক স্বাস্থ্যেরও চরম ক্ষতি করে। এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা একসময় সঙ্গীর কাছে আপনাকে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ করে তোলে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি সঙ্গীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন?
১. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যেতে আপনার আর ভালো লাগে না। আপনি যেখানেই যান না কেন, আপনার মন পড়ে থাকে সঙ্গী কী করছেন, এই ভাবনাতেই। বন্ধুদের সঙ্গেও বিশেষ হ্যাংআউট বা সময় কাটানোতে আপনি আর আগ্রহী নন। এটি একটি বড় বিপদ সংকেত। অজান্তেই আপনি ধীরে ধীরে সমাজের থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলছেন।
২. নিজের ইচ্ছার বলিদান: সিনেমা দেখতে যাওয়া হোক বা শপিং কিংবা ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া; সব সময় কি শুধু সঙ্গীর পছন্দমতো জায়গা এবং সময়কেই প্রাধান্য দেন? আর আপনিও সেই অনুযায়ী নিজের ইচ্ছার মোড় ঘুরিয়ে দেন? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মানসিকতায় দ্রুত বদল আনা জরুরি। নিজেকে যদি আপনি গুরুত্ব না দেন এবং নিজের পছন্দের জায়গা ত্যাগ করেন, তবে আপনার সঙ্গীও আপনার মূল্য কমিয়ে দেবেন এবং আপনি তাঁর কাছে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ হয়ে যাবেন।
৩. তীব্র নিরাপত্তাহীনতা (Insecurity): সঙ্গী আপনাকে ছাড়া একা কোথাও গেলে আপনি কি নিরাপত্তাহীনতায় (Insecurity) ভুগতে থাকেন? কিংবা তিনি যখন নিজের পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, তখন আপনার কি অসহ্য লাগে? সামান্য ঝগড়া হলেই কি আপনি সম্পর্ক ভেঙে যাবে বলে মনে করেন?
যদি এমনটা হয়, তবে অবিলম্বে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনুন। প্রতিটি সম্পর্কে ‘স্পেস’ বা ব্যক্তিগত পরিসর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গীকে তাঁর বন্ধুদের বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বাধীনতা দিন। যদি আপনি এই স্বাধীনতা না দিতে পারেন, তবে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হবে এবং বিপদ আসন্ন।