চোখে চোখ রেখে কথা বলা অসম্ভব কেন? স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ফাঁস করলেন নীরবতার পেছনের সেই কঠিন রহস্য!

কথাবার্তা বলার সময় আমরা প্রায়শই অপরের চোখে চোখ রেখে বেশিক্ষণ কথা বলতে পারি না—কিছুক্ষণ পরই দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হয়। কিন্তু নীরবে, কথা না বলে, দু’জন মানুষ পরস্পরকে অনেকক্ষণ দেখতে পারেন। এর কারণ কী? এতদিন এই বিষয়টিকে ঔদ্ধত্য বা ব্যক্তিগত অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখা হলেও, জাপানের একদল স্নায়ুবিজ্ঞানী এর নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক রহস্যের সমাধান করেছেন।
স্নায়ুবিজ্ঞানী কাজিমুরা এবং নোমুরার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল ২৬ জন মানুষের উপর একটি নিরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের কম্পিউটার-সৃষ্ট একটি মুখের সামনে বসিয়ে শব্দের অন্তাক্ষরীর মতো একটি গেম খেলতে বলা হয়। দেখা গেল, যখনই অংশগ্রহণকারীরা মস্তিষ্কের মধ্যে প্রয়োজনীয় শব্দ বা বাক্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, তখনই কম্পিউটার স্ক্রিনে থাকা মুখটির সঙ্গে তাঁদের চোখের সংযোগ ভেঙে যাচ্ছে।
গবেষণা থেকে উঠে আসা মূল সিদ্ধান্ত:
কথা না বলে দু’জন মানুষ পরস্পরের চোখে চোখ রেখে দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারলেও, কথা বলতে গেলেই তা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর প্রধান কারণ হলো— মনোযোগের দ্বৈততা (Dual Attention)।
আসলে কথোপকথনের সময়ে আমাদের মস্তিষ্ককে একই সঙ্গে দুটি জটিল কাজ করতে হয়: (১) চোখের সংযোগ বজায় রাখা এবং (২) মনের ভিতরে প্রয়োজনীয় শব্দ খুঁজে বের করা ও সাজানো।
বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এসেছেন, এই শব্দ খোঁজা এবং চোখে চোখ রাখা—এই দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। তাই ক্ষণিকের জন্য হলেও মস্তিষ্ক শব্দ চয়নের জন্য চোখের মণি সরিয়ে নেয় এবং ‘আই কন্ট্যাক্ট’ নষ্ট হয়।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ক্রিয়াপদ (Verb) খোঁজার সময়েই এই সংযোগ সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়। কারণ চেতনতত্ত্ব (Cognition) অনুযায়ী, বিশেষ্য বা বিশেষণ খোঁজার তুলনায় ক্রিয়াপদ খুঁজতে আমাদের মস্তিষ্ককে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় নিতে হয়।
‘কগনিশন’ নামক গবেষণা-জার্নালে প্রকাশিত এই নিবন্ধে কাজিমুরা ও নোমুরার দল দেখিয়েছেন, নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলার সময় দুই ব্যক্তি প্রায় একই শব্দভাণ্ডার ব্যবহার করেন, ফলে শব্দচয়নে সমস্যা দেখা দেয় এবং সংযোগ নষ্ট হয়। একটি মার্কিন বিজ্ঞান পত্রিকার মতে, যে সংস্কৃতিতে চোখে চোখ রাখার বাধ্যবাধকতা কম, সেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে কথোপকথন অনেক গভীরে প্রবেশ করতে পারে।