অ্যালার্জির সমস্যা বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, চুলকানি—এসব উপসর্গ নিয়ে অনেকেই নাজেহাল। অ্যালার্জির হাত থেকে বাঁচতে হলে প্রধান উপায় হলো, যে বস্তুতে অ্যালার্জি হয় বা অ্যালার্জেনগুলো এড়িয়ে চলা। আপনার চারপাশেই এমন অনেক জিনিস থাকতে পারে যা আপনার অ্যালার্জির কারণ হচ্ছে। তাই যখন দেখবেন কিছুতেই অ্যালার্জি কমছে না, তখন একটু নজর দিন আপনার পরিবেশের দিকে।
১. আসবাবপত্র:
আপনার ঘরের চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, আলমারি বা ওয়ার্ডরোবের ওপর ও ফাঁকে দিনের পর দিন ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইট জমতে থাকে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাকও জন্ম নিতে পারে। তাই এই আসবাবপত্রগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করা জরুরি। বদ্ধ বা ভ্যাপসা ঘর হলে মাঝেমধ্যে এগুলোকে বাইরে বা ছাদে রোদে দেওয়া ভালো।
২. কার্পেট ও ম্যাট:
ঘরের মেঝেতে পাতা কার্পেট ও ম্যাট ধুলা ও ডাস্ট মাইট জমার অন্যতম পছন্দের জায়গা। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের বাড়িতে কার্পেট না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি কার্পেট বা ম্যাট থাকে, তবে নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মেঝেতে কার্পেট বা ম্যাট না থাকলে প্রতিদিন ঘর ঝাড়ু দিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
৩. রান্নাঘর:
আর্দ্র রান্নাঘরে সহজেই ছত্রাক বাসা বাঁধতে পারে। তাই রান্নার কাজ শেষ হওয়ার পর রান্নাঘর ভালোভাবে ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে শুকনো রাখতে হবে। রান্নাঘরের ধোঁয়া বাইরে বের করার জন্য সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
৪. বই-পুস্তক:
টেবিল, বইয়ের তাক বা আলমারিতে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা বইগুলোতে প্রচুর ধুলা জমে এবং ডাস্ট মাইট বাসা বাঁধে। বই শুধু গুছিয়ে রাখলেই হবে না, নিয়মিত সেগুলো নাড়াচাড়া করতে হবে এবং পড়তে হবে। এর ফলে বই পরিষ্কার থাকবে এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি কমবে।
৫. পোষা প্রাণী:
বিড়াল, কুকুর, খরগোশ ইত্যাদি প্রাণীর লোম অনেকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এমনকি পাখি বা অন্যান্য প্রাণীর মলমূত্র থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। যদি আপনি পশু-পাখি পুষে থাকেন, তবে তাদের নিয়মিত স্নান করানো এবং তাদের থাকার জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা জরুরি। তাদের মলমূত্রও দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত।
এই সহজ বিষয়গুলোর দিকে একটু নজর দিলেই অ্যালার্জির সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশের পরিবেশই হতে পারে আপনার অ্যালার্জির মূল কারণ। তাই সচেতন থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।