বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক, তবে সময়ের আগে বুড়িয়ে যাওয়াটা মোটেই কাম্য নয়। রোদ, অস্বাস্থ্যকর খাবার-দাবার এবং জীবনযাপনের কারণে অনেকেরই বয়সের আগেই ত্বকে বলিরেখা, ভাঁজ বা অকাল বার্ধক্যের ছাপ দেখা যায়। বিশেষত চোখের কোণে বা ঠোঁটের পাশে অবাঞ্ছিত ভাঁজ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সুখবর হলো, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার চাবিকাঠি আপনার হাতেই রয়েছে! একটি সর্বভারতীয় হেলথ ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, তিনটি সহজলভ্য উপাদান মহৌষধির মতো কাজ করে মুখের বলিরেখা, ভাঁজ ও অকাল বার্ধক্য এড়াতে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই জাদুকরী উপাদানগুলো সম্পর্কে।
১. জোজোবা অয়েল (Jojoba Oil): ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে
জোজোবা অয়েল ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এই তেল ত্বককে ব্যাকটেরিয়া-মুক্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ক্লেনজিং ও ময়েশ্চারাইজিংয়ের কাজেও এর ব্যবহার অতুলনীয়। নিয়মিত জোজোবা অয়েল ব্যবহার করলে ত্বকের টানটান ভাব বজায় থাকে, যা বয়সের ছাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এটি ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায় এবং আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে সতেজ রাখে।
২. গ্রিন টি (Green Tea): শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে
নিয়মিত গ্রিন টি পান করা শুধুমাত্র ওজন কমাতেই নয়, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও সহায়ক। দিনে ২ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতেও সাহায্য করে, যা ত্বকের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই সাধারণ চায়ের বদলে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
৩. বেদানা (Pomegranate): ত্বকের শিথিলতা রোধ ও দাগ দূর করতে
বেদানায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বক শিথিল হয়ে যাওয়া রোধ করতে বেদানার জুড়ি মেলা ভার। নিয়মিত বেদানা বা বেদানার রস খেলে এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ত্বকে কালো ছোপ বা পিগমেন্টেশন থাকলে তাও দূর হয়। বেদানার অ্যান্টি-এজিং গুণাবলী ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এই তিনটি উপাদান নিয়মিত আপনার দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে অকাল বার্ধক্যের ছাপ থেকে মুক্তি পেয়ে ত্বককে সতেজ ও তারুণ্যময় রাখা সম্ভব। তবে, ত্বকের যেকোনো গুরুতর সমস্যার জন্য একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।