১৬ মিনিটেই আসবে ঘুম, কিন্তু কিভাবে? জানুন

দৌহিক ক্লান্তি কিংবা হতাশা-দুশ্চিন্তার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অফিসের চাপ, সামনে পরীক্ষা অথবা পরিবার বিয়ে ঠিক করেছে এসব কারণেও নির্ঘুম রাত কাটতে পারে। কিছুতেই দু চোখের পাতা এক হয় না। সারারাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এটাকে রোগ হিসেবে অবিহিত করেন। তারা বলেন স্লিপ হাইজিন বা নিদ্রাবিধি মেনে চললেই এ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বর্তমান বিশ্বে ৮ থেকে ৮০ সবারই একই সমস্যা। ঘুম আসে না।

এ বিষয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোম মাধ্যমগুলো ঘুমের পথে বাধা হয়ে যাচ্ছে। স্মার্ট ফোন ও ভিডিও গেম ঘুমের সর্বনাশ করছে। তা ছাড়া সোশ্যালি মিডিয়ায় বাগবিতণ্ডাতো রয়েছেই। এসব কারণে স্বাভাবিক ঘুম থেকে আপনি বিরত থাকছেন।

তাহলে কি ঘুমের ওষুধই কি একমাত্র পথ? মনোবিদরা বলছেন কখনই নয়। ব্যাক কাউন্টিং, মনোসংযোগের মতো দাওয়াইয়ের সন্ধান তারা প্রায়ই দিয়ে থাকেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি নামের একটি বিখ্যাত জার্নাল ঘুমের দরজা খোলার একটি অসাধারণ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন। সে তথ্য মতে শোয়ার ১৬ মিনিটের মাথায় আপনার ঘুম আসবেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ৫৭ জন তরুণ-তরুণী নিয়ে এই গবেষণা চালান। তিনি এই ৫৭ জনকে দুটো দলে ভাগ করে দেন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে একদলকে লিখতে বলেন, তারা কী কী করেছেন। এবং আরেক দল লেখেন কী কী করতে চান।

দেখা যাচ্ছে, যারা কী করেছেন লিখেছেন তাদের ঘুম আসতে দেরি হয়েছে। আর যারা কী করতে চান লিখেছেন, তারা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছেন।

মনোবিদরা বলছেন, কাজের তালিকা তৈরি করে তা ভাবা বা মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া ধীরে ধীরে স্নায়ুকে শিথিল করে ঘুমে ডুবে যাওয়ার দারুণ টোটকা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ঘুমের বড়ি খাওয়া ঠিক নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ক্ষেত্রে হতে পারে। এরপরও যদি বিনিদ্র রজনী হয়। অনেকে আবার ঘুমিয়ে পড়েন ঠিকই। ঘুম ভাঙে মাঝ রাতে তখন আর ঘুমাতে চান না। এটি আরও বেশি কষ্ট দায়ক হয়। এমন পরিস্থিতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy