বর্তমান যুগে গান শোনা, অফিস মিটিং বা ভিডিও গেম—হেডফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারফোন গুঁজে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করছেন যে, এই অভ্যাসের কারণে আপনি চিরতরে আপনার শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন। আধুনিক এই শৌখিনতা কীভাবে আমাদের শরীরের ক্ষতি করছে, তা একবার দেখে নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারে যেসব ক্ষতি হতে পারে:
শ্রবণশক্তি হ্রাস (Hearing Loss): সাধারণত ৯০ ডেসিবেল বা তার বেশি মাত্রার আওয়াজ দীর্ঘক্ষণ কানে গেলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
টিনিটাস (Tinnitus): অনেকের কানে সারাক্ষণ ভোঁ-ভোঁ বা বাঁশির মতো শব্দ হওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। একে টিনিটাস বলা হয়, যা অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারের অন্যতম লক্ষণ।
মস্তিষ্কের ক্ষতি: হেডফোন থেকে নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ সরাসরি মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে মাথাব্যথা, অনিদ্রা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
কানের ইনফেকশন: দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোন লাগিয়ে রাখলে কানের ভেতর বায়ু চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অন্যের ইয়ারফোন ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ভার্টিগো বা মাথা ঘোরা: কানের ভেতরের অংশ আমাদের শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। হেডফোনের তীব্র কম্পন সেই ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, যা থেকে মাথা ঘোরার মতো সমস্যা শুরু হয়।
সতর্কতা:
একটানা ৩০ মিনিটের বেশি হেডফোন ব্যবহার করবেন না। ভলিউম সবসময় ৬০ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করুন (৬০/৬০ নিয়ম)। সম্ভব হলে ইয়ারফোনের বদলে বড় হেডফোন ব্যবহার করুন যা কানের ভেতরে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে না।





