হঠাৎ বিকল হতে পারে কিডনি! জলশূন্যতা ও ব্যথানাশক ওষুধ হতে পারে কারণ

কিডনি মানব দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কিন্তু হঠাৎ করেই এই অঙ্গটি বিকল হয়ে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে জলশূন্যতা অথবা ডায়রিয়া। যারা প্রতিদিন রোদে কাজ করেন এবং পর্যাপ্ত জল পান করার সুযোগ পান না, তাদের ক্ষেত্রে জলশূন্যতার কারণে আকস্মিক কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এছাড়াও, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, কিডনিতে অতিরিক্ত পাথর জমা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ইউরিন ইনফেকশনের মতো কারণেও একদিনের মধ্যে কিডনি বিকল হতে পারে।

এ বিষয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ সামাদ বলেন, “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডায়রিয়া থেকে সৃষ্ট জলশূন্যতাই আকস্মিক কিডনি বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ।”

তিনি আরও পরামর্শ দেন, ডায়রিয়া হলেই তাৎক্ষণিকভাবে খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা উচিত, যাতে শরীরে জলশূন্যতা না দেখা দেয়। অনেক সময় তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের কারণেও আকস্মিক কিডনি বিকল হতে পারে। তাই যখন তখন ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। ওষুধ গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জল পান করাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে জানান ডা. সামাদ। তিনি বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই অতিরিক্ত জল পান করা উচিত নয়। এর ফলে বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও, একসঙ্গে দ্রুত অত্যাধিক জল পান করাও ঠিক নয়। কিছুক্ষণ পরপর ধীরে ধীরে জল পান করা উচিত।” এই বিষয়ে সকলেরই সতর্ক থাকা জরুরি।

তলপেটে বা মূত্রনালিতে ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, প্রস্রাবে পাথর যাওয়া, চোখের পাতা বা পা ফোলা, ত্বকের রং ফ্যাকাশে হওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, শরীরে কালচে দাগ দেখা দেওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

কিডনির রোগ শনাক্তকরণ সম্পর্কে ডা. সামাদ জানান, “ইউরিন ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই কিডনির সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়াও সম্ভব।” কিডনির সমস্যা ধরা পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

কিডনি ফেইলিউর সাধারণত পাঁচটি ধাপে হয়ে থাকে। তৃতীয় ধাপে রোগ শনাক্ত করা গেলে ওষুধের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়, যার ফলে রোগী আরও বেশ কয়েক বছর সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। পঞ্চম ধাপে পৌঁছালে রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়।

কিডনি রোগ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে ডা. সামাদ বলেন, “শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১৫ মিনিট জোরে হাঁটলে গড়ে তিন বছর পর্যন্ত আয়ু বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। এটি বাদ দিলে হার্ট অ্যাটাকসহ কিডনি রোগের ঝুঁকিও কমে।”

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ থাকলে নিয়মিত কিডনির পরীক্ষা করানো উচিত। খাদ্যাভ্যাসের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করা এবং লবণ খাওয়া পরিহার করা উচিত। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে, বিশুদ্ধ জল পান করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy