অতিরিক্ত ওজন কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, এটি অজস্র রোগের প্রবেশদ্বার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে বাড়তি কোলেস্টেরলের কারণে যে ওজন বৃদ্ধি পায়, তা ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগ এবং এমনকি ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নারীদের জন্য ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি:
অতিরিক্ত ওজন নারীদের জন্য ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ হলো, শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট থাকলে তা থেকে এস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও, ইনসুলিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও স্থূলতার সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, শরীরে যত কম ফ্যাট থাকবে, শরীর তত বেশি সুস্থ থাকবে এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি ততই কমবে।
হৃদরোগ ও রক্তচাপের ভয়াবহতা:
ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব ঘাতক। রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার ভয় বেড়ে যায়, যা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির সমস্যা, চোখের ক্ষতি, ডিমেনশিয়া এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে। তাই হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর সুস্থতার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত ওজন হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালীর অসুখের অন্যতম প্রধান কারণ, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডায়াবেটিস: আরও এক নীরব ঘাতক:
ওজন বৃদ্ধির কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এই নীরব ঘাতক আমাদের কিডনি, চোখ, পা, কান এবং হৃদযন্ত্রকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
হাঁটু ও জয়েন্টের সমস্যা এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া:
অতিরিক্ত ওজন শরীরের হিপ, হাঁটু এবং গোড়ালির জয়েন্টগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ বাড়ায়। এর ফলে লিগামেন্টগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তরুণাস্থি দ্রুত ভেঙে যায়, যা অসহনীয় ব্যথার কারণ হয়। এছাড়াও, যাদের ওজন অতিরিক্ত, তাদের ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ হওয়ার ভয় বেশি থাকে। ঘুমের সময় মুখ এবং গলার নরম টিস্যু শিথিল হয়ে যায়, ফলে স্থূল ব্যক্তিদের শ্বাস-প্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা ঘুমের মান এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, সুস্থ এবং রোগমুক্ত জীবন যাপনের জন্য শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখা অপরিহার্য। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাপনে শৃঙ্খলা আনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, বাড়তি ওজন কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি আগাম রোগের এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।