আজকাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে স্টাইলিশ ফ্লিপফ্লপ বা রংবেরঙের টটি পরা অনেকেরই পছন্দের। দেখতে সুন্দর হলেও, এই ধরনের জুতো শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, চটি পরে হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। সেই সঙ্গে পায়ে সংক্রমণের আশঙ্কাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পা যত কম ঢাকা থাকবে, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো হাজারো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং ভাইরাসেরা তত বেশি করে আক্রমণের সুযোগ পাবে। এর ফলে ত্বকের সংক্রমণসহ নানা রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
শুধু তাই নয়, চটির বিশেষ গঠনের কারণে চলার সময় হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা যেমন বাড়ে, তেমনি গোড়ালিতে আঘাত লাগার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এখানেই শেষ নয়, আরও নানাভাবে চটি আমাদের শারীরিক ক্ষতি করে থাকে, যা জানলে হয়তো অনেকেই এই ধরনের জুতো পরা ছেড়ে দেবেন।
চটি পরলে শরীরের যেসব ক্ষতি হতে পারে:
জয়েন্ট এবং পেশির ক্ষতি: দিনের পর দিন চটি পরে হাঁটার ফলে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোড়ালি। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য পেশি, এমনকি স্পাইনাল কর্ডেও মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, চটি পরে হাঁটার সময় শারীরিক ভারসাম্য ঠিক না থাকার কারণে হোঁচট খাওয়ার এবং পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
ভুল অভ্যাস তৈরি: চটি পরে হাঁটার সময় বড় বড় পদক্ষেপ ফেলা সম্ভব হয় না। ফলে কোমর এবং হাঁটুতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে শরীরের এই অংশগুলির ক্ষয় হতে শুরু করে, যা শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়।
ফোসকা পড়ার প্রবণতা: চটি পরলে পায়ে ফোসকা পড়া একটি সাধারণ ঘটনা। আর ফোসকা পড়লে পায়ের ওই অংশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। ফলে সমস্যা কমার বদলে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
শিরদাঁড়ায় মারাত্মক চাপ: আগেই বলা হয়েছে, চটি পরে হাঁটলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিরদাঁড়ার উপর, যার ফলে পিঠে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পায়ের জন্য কেমন জুতা ভালো?
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পায়ের পাতা ঢাকা থাকে এমন জুতো পরলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই ধরনের জুতো শুধু সংক্রমণের হাত থেকেই বাঁচায় না, সেই সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে আঘাত লাগার ঝুঁকিও কমায়। তাই ফ্যাশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে জুতো নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।