শিশুদের চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় খুব সহজেই তাতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রায়শই দেখা যায় শিশুদের চোখ লাল হয়ে যায়, যা অনেক বাবা-মায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই লালভাবের সঙ্গে চুলকানি, শুষ্কতা বা জল পড়ার মতো উপসর্গও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখ লাল হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং দ্রুত এর সমাধান করা জরুরি।
শিশুদের চোখ লাল হওয়ার প্রধান কারণগুলো:
চোখ ডলা: শিশুরা যদি বারবার চোখ ডলে বা ঘষে, তবে চোখ লাল হয়ে যেতে পারে। এটি একটি সাধারণ কারণ এবং সাধারণত কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়।
অ্যালার্জি: ধুলাবালি বা কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের ব্যবহারে অ্যালার্জির কারণে চোখ লাল হতে পারে। আঘাত লাগলেও চোখ লাল হয়ে জল পড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভাইরাল সংক্রমণ: অ্যাডিনোভাইরাস বা হারপিসের মতো ভাইরাসের কারণেও চোখ লাল হতে পারে। এই সংক্রমণের ফলে চোখের ভেতরের অংশ লাল হয়ে যায় এবং এর সঙ্গে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ: সাধারণত হোমিফিলস বা স্ট্রেপ্টোকোকাস নিউমোনিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়ার কারণে চোখে সংক্রমণ হয়। এর ফলে চোখের মণির চারপাশের অংশ লাল হয়ে যায়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চোখ হলুদও হতে পারে।
পোকামাকড়ের কামড়: খেলার সময় কোনো পোকামাকড়ের কামড়েও চোখ লাল হতে পারে। যদিও অনেক সময় এটি নিজে থেকে সেরে যায়, তবে গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুর চোখ লাল হলে করণীয়:
ঠান্ডা জলের ঝাপটা: চোখে ধুলা বা আঘাতের কারণে লাল হলে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন এবং একটি নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করুন।
গরম সেঁক: আঘাত বা পোকার কামড়ের ফলে চোখ লাল হলে সুতির কাপড় গরম করে আলতো সেঁক দিলে আরাম মিলতে পারে।
সাবান বা শ্যাম্পু পরিবর্তন: যদি কোনো নির্দিষ্ট সাবান বা শ্যাম্পুর কারণে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেই পণ্য পরিবর্তন করুন।
চোখ চুলকানো থেকে বিরত রাখা: শিশুকে বারবার চোখ চুলকানোর অভ্যাস থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করুন, কারণ এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
চোখের ড্রপ ব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে লালভাব ও অস্বস্তি দ্রুত কমে আসে।
শিশুদের চোখের সমস্যাকে কখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে বা সমস্যা গুরুতর হলে দেরি না করে একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।





