অনেকেই ঘুমের সময় আরামের জন্য পোশাক ত্যাগ করে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে বিছানায় যান। এতদিন এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, বস্ত্রহীন হয়ে ঘুমালে শরীরের নানা উপকার হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, রাতে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে ঘুমানো স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে, বরং ডেকে আনতে পারে কিছু অপ্রত্যাশিত সমস্যা। আসুন জেনে নেওয়া যাক, রাতে বস্ত্রহীন হয়ে ঘুমালে কী কী অসুবিধা হতে পারে:
ত্বকের ক্ষতি:
ঘুমের সময় আমাদের শরীর বিছানার চাদরের সংস্পর্শে আসে। মোটা কাপড়ের চাদরের সঙ্গে সরাসরি ত্বকের ঘষা লাগলে ত্বকের উপরিভাগে ছোট ছোট ক্ষত বা অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে নরম কাপড়ের নাইট-স্যুট পরিধান করাই শ্রেয়।
শরীরের ঘাম:
অনেকেরই ঘুমের মধ্যে ঘাম হওয়ার প্রবণতা থাকে। হালকা কাপড়ের নাইট-ড্রেস পরিধান করলে সেই ঘাম সহজেই কাপড় শোষণ করে নিতে পারে। ফলে ঘাম শরীরে বসে ঠান্ডা লাগা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমে। বস্ত্রহীন অবস্থায় ঘুমালে ঘাম সরাসরি শরীরে বসে যেতে পারে।
দাম্পত্য জীবনে আকর্ষণ হ্রাস:
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট আকর্ষণ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি। বস্ত্রহীন হয়ে ঘুমালে দীর্ঘমেয়াদে একে অপরের প্রতি আকর্ষণ কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু বিষয় রহস্যময় রাখাই সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য ভালো।
ঘুমের ঘোরে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি:
দুর্ভাগ্যবশত অনেকেরই ঘুমের ঘোরে আকস্মিক মৃত্যু হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কেউ বস্ত্রহীন অবস্থায় মারা যান, তবে পরিবারের লোকজন একটি বিব্রতকর ও স্পর্শকাতর অবস্থায় পড়তে পারেন। এমনকি পরিস্থিতি ভুল ব্যাখ্যারও শিকার হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি:
হঠাৎ করে যদি ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে, তখন দ্রুত ঘর থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বস্ত্রহীন অবস্থায় থাকলে তাড়াহুড়োয় পোশাক পরার সময় নাও পাওয়া যেতে পারে। ফলে এমন অবস্থায় জনসমক্ষে এলে অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হতে হবে।
প্রতিবেশীর আগমন:
রাতের বেলায় জরুরি কোনো প্রয়োজনে প্রতিবেশী আপনার দরজায় নক করতেই পারেন। ঘুমের ঘোরে বিবস্ত্র অবস্থায় দরজা খুলতে গেলে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি ভুল বোঝাবুঝিরও সম্ভাবনা থাকে।
অতএব, আরামের জন্য বস্ত্রহীন হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলেও, উপরোক্ত সমস্যাগুলো বিবেচনা করা জরুরি। স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাতে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।