বাতের ব্যথার অসহ্য যন্ত্রণা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। এই সমস্যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। হাড়ের ভেতরে তীব্র ব্যথা এবং ফোলাভাব বাতের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। শুরুতেই এই সমস্যার প্রতি মনোযোগ না দিলে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী কষ্ট পোহাতে হতে পারে। নিয়মিত যত্ন না নিলে এই সমস্যা শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খাবার বাতের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই যারা বাতের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অবশ্যই এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত:
১. উদ্ভিজ্জ তেল:
যারা বাতের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাবার তৈরির ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন সানফ্লাওয়ার অয়েল, কর্ন অয়েল ইত্যাদি) ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ধরনের তেলে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের পেশীগুলোর প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই বাতের সমস্যা থাকলে এই ধরনের তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং এর পরিবর্তে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
২. কমলা:
কমলা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত উপকারী ফল। তবে আপনার যদি বাতের সমস্যা থাকে, তাহলে কমলার মতো সাইট্রাস ফল খাওয়া এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এই ফল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হলেও, এটি হাড়ের উপরে জমে থাকা ক্যালসিয়ামের স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যে কারণে কমলা বা লেবু জাতীয় ফল খেলে বাতের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
৩. বেগুন:
বেগুন ভাজা অনেকের কাছেই একটি প্রিয় খাবার। তবে বাতের রোগীদের জন্য বেগুন একেবারেই উপকারী নয়। কারণ বেগুনে সোলানাইন (Solanine) নামে একটি যৌগ বেশি পরিমাণে থাকে, যা বাতের সমস্যার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যারা বাতের ব্যথায় ভুগছেন, তারা অবশ্যই বেগুন খাওয়া বাদ দিন। এমন অবস্থায় বেগুন খেলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
৪. কফি:
অনেকেই দিনের শুরুটা কফি ছাড়া কল্পনাও করতে পারেন না। তবে আপনার যদি বাতের সমস্যা থাকে, তাহলে কফি পান করা বাদ দেওয়াই শ্রেয়। কারণ কফিতে উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন থাকে। এই ক্যাফেইন হাড় দুর্বল করে এবং জয়েন্টের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাদের বাতের সমস্যা রয়েছে, তারা এই ধরনের পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন এবং এর পরিবর্তে গ্রিন টি বা অন্যান্য हर्बल পানীয় গ্রহণ করতে পারেন।
বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরোক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চললে বাতের ব্যথা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যিনি আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।