বর্ষাকাল মানেই চারদিকে সবুজের সমারোহ। তবে এই মনোরম পরিবেশের সঙ্গে আগমন ঘটে মশার উপদ্রবেরও। বর্ষার জল জমা বিভিন্ন স্থানে মশা বংশবৃদ্ধি করে, ফলে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। এই সময় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই সময়টা বেশ উদ্বেগের কারণ।
রাজধানীতে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা উচিত। শুধু তাই নয়, মশার কামড় থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় মশার কামড়ে তারা খুব কষ্ট পায়। তাদের শরীরে চুলকানি, ব্যথা এবং লালচে ভাব দেখা দেয়। বড়দের তুলনায় তাদের সহ্যক্ষমতাও অনেক কম থাকে। তাই কোনো শিশুকে মশা কামড়ালে দ্রুত কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে তাদের আরাম দেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন:
খাবার সোডা ও জল: সামান্য খাবার সোডার সঙ্গে জল মিশিয়ে একটি মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট মশার কামড়ের জায়গায় আলতো করে লাগিয়ে দিন। এটি চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে।
বরফের টুকরো: যদি চুলকানি খুব বেশি হয়, তাহলে একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফের টুকরো নিয়ে আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে মালিশ করতে পারেন। ঠান্ডা ভাব চুলকানি কমাতে আরাম দেবে।
অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা গাছের শাঁস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। মশার কামড়ের স্থানে অ্যালোভেরার শাঁস লাগালে জ্বালাপোড়া এবং লালচে ভাব কম হতে পারে।
তবে শিশুদের ত্বকে কোনো প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো প্রকার মলম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ক্যালামাইন এবং প্র্যামকসিন সমৃদ্ধ মলম মশার কামড়ের ব্যথা ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করলেও, অ্যানাস্থেটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় উপাদানযুক্ত মলম শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই ধরনের মলম ব্যবহারের আগে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষাকালে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে এবং মশাবাহিত রোগ থেকে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সচেতন থাকা অপরিহার্য। বাড়ির আশেপাশে জল জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।