পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কি শুধু খাদ্যাভ্যাসের ফল? বাবা হতে চাইলে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?

সন্তান না হওয়ার দায় প্রায়শই নারীর ওপর চাপানো হলেও, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা পুরুষেরও হতে পারে। অবাক করা বিষয় হল, একজন পুরুষের বাবা হওয়ার ক্ষেত্রে তার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবারের প্রতি উদাসীনতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই পুরুষের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ এবং নিদ্রাহীনতাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু ভুল অভ্যাস পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট (শুক্রাণুর সংখ্যা) কমিয়ে দিতে পারে, যা বাবা হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। যেসব পুরুষ সন্তানের পরিকল্পনা করছেন, তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু নির্দিষ্ট খাবার থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

যেসব খাবার পুরুষের বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী হতে পারে:
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার: প্রতিদিন অল্প মিষ্টি খাওয়া গেলেও, অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে ওজন বাড়ে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে, যা পুরুষের ফার্টিলিটির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত।

ফাস্টফুড জাতীয় খাবার: বর্তমানে ফাস্টফুড সহজলভ্য হলেও, এই মুখরোচক খাবারগুলিতে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা শরীরে জল ধরে রাখে। এছাড়াও, এগুলিতে তেলের পরিমাণও থাকে অনেক বেশি, যা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ধূমপান: ধূমপান একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর অভ্যাস, যা সিগারেটের প্যাকেটের গায়েও লেখা থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান পুরুষের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি শুক্রাণুর গুণগত মান এবং সংখ্যা উভয়কেই খারাপ করে দেয়। যারা বাবা হতে চাইছেন, তাদের দ্রুত ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা অপরিহার্য।

মদ্যপান: নিয়মিত মদ্যপান শুধু হার্ট বা লিভারের ক্ষতি করে না, এটি পুরুষের শুক্রাণুর মানও মারাত্মকভাবে খারাপ করে দেয়। তাই বন্ধ্যাত্ব এড়াতে এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত।

সুস্থ প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য করণীয়:
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সুষম এবং পুষ্টিকর খাবারের তালিকা মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করা উচিত। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা জরুরি। এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসও পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy