ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া সবসময় সহজ হয় না। বিশেষত, যখন ঋণগ্রহীতা সেই বিষয়ে গড়িমসি করেন। যদি এমন পরিস্থিতি হয়, যেখানে আপনার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বন্ধু, পরিবার বা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি না ঘটিয়ে সমস্যার সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
স্পষ্টভাবে কথা বলুন:
প্রথম পদক্ষেপ হল ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। শান্তভাবে তার সঙ্গে দেখা করে অথবা ফোনে আপনার পাওনা টাকার বিষয়ে আলোচনা করুন। আপনি চাইলে মেসেজের মাধ্যমেও আপনার উদ্বেগের কথা জানাতে পারেন। অনেক সময় এমন হয় যে ঋণগ্রহীতা হয়তো ভুলেই গেছেন অথবা অন্য কোনো কারণে সময়মতো ফেরত দিতে পারেননি। তাই, প্রথমে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি। কত টাকা বা কোন জিনিস আপনি ধার দিয়েছিলেন এবং কবে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। আপনার প্রত্যাশা কী, তাও বুঝিয়ে বলুন। এমনভাবে কথা বলুন যাতে কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝি বা ঝগড়া না হয়।
সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিন:
যদি ঋণগ্রহীতা নিজে থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখের কথা না বলে, তাহলে আপনি তাকে একটি সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন। ভদ্রভাবে তাকে জানান যে কেন আপনার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা বা জিনিস ফেরত পাওয়া প্রয়োজন। যদি তার সদিচ্ছা থাকে, তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপনার পাওনা মিটিয়ে দিতে পারবে।
ভাগ ভাগ করে নিন:
যদি ঋণগ্রহীতার পক্ষে একবারে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে আপনি কিস্তিতে টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি দশ হাজার টাকা পান, তবে তাকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে পাঁচ মাসে পরিশোধ করার সুযোগ দিতে পারেন। কিছুটা নমনীয় হলে হয়তো ঋণগ্রহীতার জন্য সুবিধা হবে এবং আপনার টাকাও ধীরে ধীরে ফেরত পাবেন।
লিখিতভাবে রাখুন:
বড় অঙ্কের টাকা বা মূল্যবান জিনিস ধার দেওয়ার সময় একটি লিখিত চুক্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ। চুক্তিতে পরিশোধের শর্তাবলী, সময়সীমা এবং যদি সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয় তবে জরিমানার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ থাকা উচিত। উভয় পক্ষের স্বাক্ষর এই চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। লিখিত প্রমাণ থাকা একটি ভালো অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে এবং ঋণগ্রহীতাকে দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করে। ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে এই চুক্তি আপনাকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পদ্ধতিটি আনুষ্ঠানিক এবং এর অর্থ হল ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্কের গুরুত্ব বজায় রেখে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিলে আশা করা যায় আপনি আপনার ধার দেওয়া টাকা ফেরত পাবেন।