ডায়াবেটিস ধরা পড়লে খাবারের তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। মিষ্টি জাতীয় খাবার একেবারে বাদ, এমন হাজারো বিধি-নিষেধের বেড়াজালে বন্দী হয়ে পড়ে জীবন। চিনিযুক্ত খাবার যে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে সুখবর হলো, এমন কিছু সুস্বাদু খাবার রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে উপভোগ করতে পারেন। ওয়েব এমডি ডট কমের তথ্যানুসারে, সেই খাবারের একটি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাদাম দুধ:
শুধু দুধ খেতে যাদের ভালো লাগে না এবং সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে চিনি মেশাতেও পারেন না, তাদের জন্য বাদাম দুধ একটি চমৎকার বিকল্প। এটি যেমন শরীরে বাড়তি ভিটামিন যোগ করে, তেমনই এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী। বাদাম দুধে ক্যালোরির পরিমাণও কম থাকে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
২. বাদামের রুটি:
বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিন ভরপুর থাকে। পাশাপাশি, এগুলোতে শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও কম থাকে। ফলে বাদামের তৈরি রুটি রক্তে শর্করার মাত্রা খুব একটা বাড়ায় না এবং সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি গমের আটার পরিবর্তে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
৩. তাজা চর্বিহীন মাংস:
প্রক্রিয়াজাত বা লাল মাংসের পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় তাজা মাছ অথবা চর্বিহীন মাংস যোগ করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। এগুলোতে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। তবে অবশ্যই চামড়া বাদ দিয়ে এবং কম তেলে রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৪. নারকেল বা লেবুর জল:
ফলের রসে সাধারণত চিনির পরিমাণ একটু বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ফল কম পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পানীয়ের চাহিদা মেটাতে নারকেলের জল বা লেবুর জল একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। ডাবের জল খেলে শরীরে পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজারের মিষ্টি মেশানো ডাবের জল এড়িয়ে চলুন।
৫. লো-কার্ব মিঠাই বল:
এই বিশেষ মিষ্টি বলগুলো সাধারণত স্বাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়, যা আপনাকে ফাইবার এবং প্রোটিনও সরবরাহ করবে। চিনির পরিমাণ কম রেখে অথবা কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করে এটি বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। কোকো পাউডার, আখরোট বা বাদাম, খেজুরের পেস্ট (সীমিত পরিমাণে), ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ছোট ছোট ফুড বল তৈরি করতে পারেন। এটি মিষ্টি খাবারের আকাঙ্ক্ষা মেটানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরও।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই খাবারগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করে ডায়াবেটিস রোগীরাও তাদের খাদ্যতালিকা কিছুটা বৈচিত্র্যময় করতে পারেন। তবে যেকোনো নতুন খাবার ডায়েটে যোগ করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।