চোখের পাতার নিচে বা উপরে লালচে ফুসকুড়ির মতো হয়ে ফুলে যাওয়া—যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় ‘অঞ্জনি’ বলি, তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। অনেকের ধারণা এটি ছোঁয়াচে বা খারাপ দৃষ্টির ফলে হয়, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এটি মূলত চোখের তৈল গ্রন্থিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ঘটে।
অঞ্জনির এই অস্বস্তি ও ব্যথা দ্রুত কমাতে এবং বারবার হওয়া আটকাতে কী করবেন? জেনে নিন সহজ কিছু টিপস:
১. গরম সেঁক (Warm Compress) – সবচেয়ে কার্যকর উপায়
অঞ্জনি সারানোর সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার হলো গরম সেঁক। একটি পরিষ্কার নরম সুতির কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। এবার বন্ধ চোখের ওপর ৫-১০ মিনিট হালকা করে চেপে ধরুন। দিনে ৩-৪ বার এটি করলে অঞ্জনির ভেতরে জমে থাকা পুঁজ বেরিয়ে আসবে এবং ফোলা দ্রুত কমবে।
২. ভুলেও হাত দেবেন না বা টিপবেন না
অনেকেই অঞ্জনিকে সাধারণ ব্রণের মতো মনে করে টিপে পুঁজ বের করার চেষ্টা করেন। এটি করা মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। এতে সংক্রমণ আরও গভীরে ছড়িয়ে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অঞ্জনি নিজে থেকে ফাটতে দিন।
৩. গ্রিন টি ব্যাগ ব্যবহার
ব্যবহৃত গ্রিন টি ব্যাগ ঠান্ডা করে অঞ্জনির ওপর দিয়ে রাখতে পারেন। গ্রিন টি-র অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান অঞ্জনির সংক্রমণ কমাতে এবং চোখের আরাম দিতে সাহায্য করে।
৪. চোখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
অঞ্জনি হলে কয়েকদিন চোখে মেকআপ বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। এছাড়া অঞ্জনি হলে বারবার চোখ স্পর্শ করবেন না।
কেন বারবার অঞ্জনি হয়?
যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, ব্লিফারাইটিস (Blepharitis) বা চোখের পাতায় প্রদাহ আছে, তাঁদের বারবার অঞ্জনি হওয়ার প্রবণতা থাকে। এছাড়া অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ ঘষা বা মেয়াদোত্তীর্ণ আই মেকআপ ব্যবহার করাও এর অন্যতম কারণ।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি ১ সপ্তাহের মধ্যে অঞ্জনি না কমে।
যদি চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়।
যদি অতিরিক্ত জল পড়ে এবং চোখের মণি লাল হয়ে যায়।





