ঘুমের দেশে আমরা যখন অচেতন, তখন শরীর বিশ্রাম নেওয়ার কথা। কিন্তু এক অবাক করা বিষয়, কিছু মানুষ ঘুমের মধ্যেই হাঁটাচলা করে! এই রহস্যময় অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় “স্লিপ ওয়াকিং” বলা হয়, যা এক প্রকার ঘুমজনিত রোগ।
স্লিপ ওয়াকিং-এ আক্রান্ত ব্যক্তি গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ উঠে বসে এবং ঘরের ভেতরে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটতে শুরু করে। এই সময় তাদের চোখ খোলা থাকলেও দৃষ্টি থাকে শূন্য, যেন তারা অন্য কোনো জগতে বিচরণ করছে। এমনকি কেউ তাদের নাম ধরে ডাকলেও তারা কোনো সাড়া দেয় না।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, এই রোগীরা তাদের নিদ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কী করছেন, তা ঘুম থেকে ওঠার পর একেবারেই মনে করতে পারেন না। তাদের রাতের কার্যকলাপ বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।
গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রায় ভুগছেন, যাদের ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই অথবা যারা অত্যন্ত মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও, ডিপ্রেশন বা মানসিক উদ্বেগের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর ঘুমের পরিবেশ, শোয়ার ঘরে অতিরিক্ত আলো এবং মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণেও স্লিপ ওয়াকিং-এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্লিপ ওয়াকিং রোগ প্রতিরোধের জন্য একটি উপযুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ঘুমের পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের সময় ঘরের টেলিভিশন বা অন্য কোনো প্রকার শব্দ বন্ধ রাখা উচিত।
দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা থেকেই কিন্তু এই ধরনের কঠিন রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপন এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যকলাপের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুম অত্যাবশ্যক। যদি স্লিপ ওয়াকিং প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই রহস্যময় ঘুম-রোগটিকে অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।