আলু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি, যা সব বয়সের মানুষের জন্যই দারুণ উপকারী। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং প্রবীণদের জন্য আলু একটি সহজপাচ্য ও শক্তিদায়ক খাবার। আলু খেলে শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনই এটি দিয়ে তৈরি করা যায় নানান সুস্বাদু পদ। বাড়িতে অতিথি এলে বা নিজেদের মুখের স্বাদ বদলাতে বানিয়ে ফেলতে পারেন নিরামিষ আলু পাতুরি। এই পদটিতে ব্যবহৃত নারকেলও শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উপকরণ:
আলু সেদ্ধ – ১০টি
কোরানো নারকেল – ১ কাপ
সরষে বাটা – ৩ টেবিল চামচ
নুন – স্বাদমতো
চিনি – স্বাদমতো
সরষের তেল – ১ কাপ
চেরা কাঁচালঙ্কা – স্বাদমতো
কিশমিশ – স্বাদমতো
প্রণালী:
নিরামিষ আলু পাতুরি তৈরির দুটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে:
প্রথম পদ্ধতি (টিফিন বক্সে ভাপে):
১. একটি পাত্রে সেদ্ধ আলু ভালো করে চটকে নিন।
2. এরপর এর মধ্যে কোরানো নারকেল, সরষে বাটা, নুন ও চিনি স্বাদমতো মিশিয়ে নিন। কিশমিশ ও কাঁচালঙ্কাও যোগ করুন। সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
৩. একটি স্টিলের টিফিন বক্সে সরষের তেল ভালো করে ব্রাশ করুন।
৪. মাখানো আলুর মিশ্রণটি টিফিন বক্সে ভরে ঢাকনা বন্ধ করে দিন।
৫. একটি বড় পাত্রে জল গরম করুন এবং তার ওপর টিফিন বক্সটি বসিয়ে দিন। ১৫ মিনিটের জন্য ভাপে রান্না করুন।
৬. ১৫ মিনিট পর ঢাকা খুলে গরম গরম নিরামিষ আলু পাতুরি পরিবেশন করুন। পরিবেশনের আগে ওপরে সামান্য কাঁচালঙ্কা দিয়ে সাজাতে পারেন।
দ্বিতীয় পদ্ধতি (কলাপাতায় ভাজা):
১. একটি পাত্রে সেদ্ধ আলু ভালো করে চটকে নিন।
২. এরপর এর মধ্যে কোরানো নারকেল, সরষে বাটা, নুন ও চিনি স্বাদমতো মিশিয়ে নিন। কিশমিশ ও কাঁচালঙ্কাও যোগ করুন। সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
৩. কলাপাতা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন এবং হালকা আঁচে একটু সেঁকে নিন, যাতে মোড়ানোর সময় না ভেঙে যায়।
৪. প্রতিটি কলাপাতা টুকরোর মধ্যে আলুর মিশ্রণ অল্প পরিমাণে দিন এবং ভালো করে মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে নিন।
৫. একটি ফ্রাইং প্যানে সরষের তেল ব্রাশ করুন।
৬. মোড়ানো আলুর পাতুরিগুলো প্যানে দিয়ে মাঝারি আঁচে এপিঠ-ওপিঠ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ভেজে নিন।
৭. ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন নিরামিষ আলু পাতুরি।
এই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর নিরামিষ আলু পাতুরি যেমন সহজেই তৈরি করা যায়, তেমনই এটি ছোট থেকে বড় সকলেরই মন জয় করে নেবে। আলুর পুষ্টিগুণ এবং নারকেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা এটিকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে পরিচিত করেছে। তাই অবশ্যই এই পদটি আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।