আমরা প্রায়শই অসাবধানতাবশত বা অভ্যাসবশত শরীরের এমন কিছু অংশ স্পর্শ করে থাকি, যা আমাদের অজান্তেই স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, সুস্থ থাকতে চাইলে এই অভ্যাসগুলো দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি। আমাদের হাতের মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, শরীরের কোন অংশগুলো বারবার স্পর্শ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং কেন:
১. কানের ছিদ্র: খোঁচাখুঁচি নয়!
কান হলো এমন এক সংবেদনশীল অঙ্গ, যার ভেতরে কখনোই কোনো কিছু প্রবেশ করানো উচিত নয়। আমাদের কানের ভেতরের চামড়া অত্যন্ত পাতলা এবং নাজুক। তাই কাঠি, আঙুল বা পেন্সিলের মতো কোনো বস্তু কানের ভেতরে ঢোকালে তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমনকি শ্রবণশক্তিও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কান চুলকালে সেই অস্বস্তিটুকু সহ্য করাই শ্রেয়। কান পরিষ্কার করানোর প্রয়োজন মনে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হোন।
২. মুখ: জীবাণুর প্রবেশদ্বার:
দিনে কতবার আমরা বেখেয়ালে মুখে হাত দিই, তার হিসেব নেই! মুখ ধোয়া বা রূপচর্চার সময় ছাড়া অন্য সময় মুখ থেকে হাত দূরে রাখুন। সারাদিন আমাদের হাত অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করে, যার ফলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু হাতে লেগে থাকে। সেই জীবাণুযুক্ত হাত মুখে দিলে ব্রণ, ফুসকুড়ি সহ ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. চোখ: ঘষাঘষি বিপজ্জনক:
চোখ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। অকারণে চোখে হাত দিয়ে ঘষাঘষি করার অভ্যাস থাকলে আজই তা ত্যাগ করুন। চোখ চুলকানো বা পরিষ্কারের জন্য সরাসরি হাত দেওয়া মারাত্মক হতে পারে। হাতের মাধ্যমে জীবাণু সহজেই চোখের ভেতর প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। চোখ ধোয়ার সময় সরাসরি হাত দিয়ে ঘষে না ধুয়ে পানির ঝাপটা দিন।
৪. ঠোঁট ও মুখের ভেতরের অংশ: নীরব আক্রমণ:
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের শরীর যেসব জীবাণুর মাধ্যমে আক্রান্ত হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই মুখের মাধ্যমে প্রবেশ করে। তাই অকারণে ঠোঁট কিংবা মুখের ভেতরের অংশ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এই সাধারণ অভ্যাসটি ত্যাগ করলে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে বাঁচা সহজ হবে, যেমন সর্দি-কাশি, ফ্লু বা অন্যান্য সংক্রমণ।
৫. নাকের ভেতরের অংশ: অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস:
নাকের ভেতরে আঙুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি করার বদ অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এটি দেখতে যেমন খারাপ দেখায়, তেমনই এটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ‘স্টাফাইলোকোকাস অরিয়াস’ (Staphylococcus aureus) নামক ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
৬. নখের ভেতর: জীবাণুর আস্তানা:
নখ একটু বড় হলেই অনেকে অন্য হাতের নখ দিয়ে এর ভেতরের অংশ খোঁচাখুঁচি করেন। এটি করা যাবে না। নখের ভেতরে ময়লা, জীবাণু এবং মৃত কোষ জমে থাকে। নখের পরিবর্তে নরম ব্রাশ ব্যবহার করে নখ পরিষ্কার করুন। এতে নখের ভেতরে থাকা জীবাণু শরীরের অন্য অংশে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে আমরা নিজেদের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে পারি। সামান্য সচেতনতাই বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।