মেনোপজ নারীদের জীবনের এক অনিবার্য মোড়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে এই পরিবর্তন আসে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও মেনোপজ নিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা ও সংকোচ। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই নীরবতাই কিন্তু ডেকে আনছে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি। হরমোনের পরিবর্তনের এই পর্বটি গুরুত্ব না দিলে তা দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
লক্ষণ চিনতে ভুল করছেন না তো? মেনোপজের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করে। স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্ণমিতা ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, অধিকাংশ নারীই এর উপসর্গগুলোকে ‘বয়সজনিত সাধারণ সমস্যা’ ভেবে এড়িয়ে যান।
উপসর্গ: হট ফ্লাশ (হঠাৎ শরীর বা মুখ গরম হওয়া), বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, অনিদ্রা এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি।
মানসিক প্রভাব: অকারণ উদ্বেগ, হঠাত রাগ, মনখারাপ বা ডিপ্রেশন। সামাজিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চর্চা কম থাকায় এই সমস্যাগুলো আরও অবহেলিত থেকে যায়।
লুকিয়ে থাকা বড় ঝুঁকিগুলো কী কী? চিকিৎসক পর্ণমিতা ভট্টাচার্যের মতে, মেনোপজ পরবর্তী সময়ে নারীদের শরীরে কয়েকটি বড় পরিবর্তন আসে: ১. হাড়ের ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস): ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ২. হৃদরোগের ভয়: কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ৩. মেটাবলিক রোগ: পেটের চারপাশে চর্বি বা ফ্যাট জমা বাড়ে, যা থেকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পথ প্রশস্ত হয়। ৪. ইউরোজেনিটাল সমস্যা: ইউরিনারি ইনফেকশন বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিলেও সামাজিক সংকোচে নারীরা চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধা করেন।
প্রিম্যাচিউর মেনোপজ: এক নতুন উদ্বেগ বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ৪০ বছরের আগেই মেনোপজ হয়ে যাচ্ছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রিম্যাচিউর মেনোপজ’ বলা হয়। এক্ষেত্রে ঝুঁকিগুলো অনেক আগে থেকে শুরু হয় এবং শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে।
উত্তরণের উপায় বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজন শুধু সঠিক সচেতনতার:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ।
সুষম খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি রাখা।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম।
প্রয়োজনে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি।





