শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। যদিও অনেকেই হাঁটেন, তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাঁটেন এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসের রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে হাঁটার বিভিন্ন উপকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঁটার সময় আমাদের পেশি সুগঠিত হয়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত থাকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত হয়। শুধু তাই নয়, হাঁটা হজমক্ষমতা বাড়াতে এবং মস্তিষ্ককে সতেজ রেখে বার্ধক্য প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের স্নায়ুবিজ্ঞানী প্রফেসর শেন ও’মারা মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে হাঁটার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতার কথা জানিয়েছেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক, সুস্থ জীবনের জন্য কেন আমাদের আরও বেশি হাঁটা প্রয়োজন:
১. মস্তিষ্ককে সচল রাখে:
নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন শুধু শারীরিক দুর্বলতাই বাড়ায় না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপরও। প্রফেসর ও’মারা জানান, নিষ্ক্রিয় থাকার অর্থ হলো মস্তিষ্কের কোষ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যেতে শুরু করা। কিন্তু যখন আমরা হাঁটি, তখন পেশিতে তৈরি হওয়া বিশেষ অণু আমাদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে।
২. হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে:
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখার জন্য হাঁটা অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. হজমে সাহায্য করে:
হাঁটা আমাদের পরিপাকতন্ত্রের জন্য বন্ধুর মতো কাজ করে। এটি খাদ্য হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৪. বিষণ্ণতা কমায়:
স্নায়ুবিজ্ঞানী শেন ও’মারা মনে করেন, বিষণ্ণতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হাঁটা মনকে সতেজ করে এবং মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
৫. ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক পরিবর্তন আনে:
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি খোলা মনের, বহির্মুখী এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। বিপরীতভাবে, নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা কম সামাজিক এবং তাদের মধ্যে স্নায়ুজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়।
৬. বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে:
আমরা যে খাবার গ্রহণ করি, হাঁটা সেই খাদ্যকে শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। ফলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৭. শারীরিক গঠন অটুট রাখে:
বর্তমানে বহু মানুষ সারাদিন চেয়ারে, সোফায় অথবা গাড়িতে বসে কাজ করেন। এর ফলে শরীরের গঠনে, বিশেষ করে পিঠে ব্যথা হতে পারে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং শারীরিক কাঠামোকে সচল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। লিফট বা গাড়ির পরিবর্তে অল্প দূরত্বে হেঁটে চলুন এবং সুযোগ পেলেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটুন। আপনার শরীর ও মন উভয়ের জন্যই এটি অত্যন্ত উপকারী।